কোলকাতা, ০৮ এপ্রিল : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতিকে স্বাগত জানাল ভারত। এই সিদ্ধান্তকে পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংঘর্ষের ফলে ইতিমধ্যেই বহু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তাই এই যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
ভারত বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার ওপর। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। সংঘর্ষবিরতির ফলে এই রুটে যাতায়াতের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ইতিবাচক সমঝোতার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা। এর সরাসরি প্রতিফলন দেখা গেছে ভারতের শেয়ার বাজারেও।
মঙ্গলবার দেশের শেয়ার বাজারে ব্যাপক উত্থান লক্ষ্য করা যায়। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ২ হাজার ৯৪৬ পয়েন্ট লাফিয়ে ৭৭ হাজার ৫৬৩-এ বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি সূচক ৮৭৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ হাজার ৯৯৭-এ পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের মে মাসের পর এটি একদিনের নিরিখে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। ফলে বাজারে ক্রয় প্রবণতা বেড়েছে এবং সূচকগুলিতে এই বড় উত্থান দেখা গেছে। একই সঙ্গে, তেলের দাম কমার সম্ভাবনা দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংঘর্ষবিরতি শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। ভারতের পক্ষ থেকেও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
Convocation of IGNOU : ইগনোর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন