আগরতলা, ০৮ জানুয়ারি : পাঁচ বছরের স্থির বেতনে রাখার আড়াই দশকের সরকারি সিদ্ধান্ত খারিজ হলো উচ্চ আদালতের রায়ে। চাকরির প্রথমদিন থেকেই নিয়মিত বেতনক্রম দেওয়ার নির্দেশ দিলো ত্রিপুরা উচ্চ আদালত। এই রায়ের ফলে উপকৃত হবেন টেট শিক্ষকসহ অন্যান্য স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা বলে জানান আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা টিচার্স রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (TRBT)–এর মাধ্যমে ২০১৭ সালে নিযুক্ত Graduate Teacher ও Post Graduate Teacher-দের Fixed Pay সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কে বড়সড় স্বস্তি দিল ত্রিপুরা হাই কোর্ট। W.A. No. 74 ও 75 of 2025 মামলায় হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্থায়ী পদে নিয়ম মেনে নিযুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে Fixed Pay নীতি অসাংবিধানিক এবং তারা যোগদানের দিন থেকেই নিয়মিত বেতন স্কেলের অধিকারী।
মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০১৭ সালে TRBT স্থায়ী শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও তাতে ৭৫ শতাংশ Fixed Pay প্রদানের কথা উল্লেখ ছিল। পরে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্রে ‘Temporary’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং এক বছরের জন্য নিয়োগ ও তিন মাসের নোটিশে চাকরি বাতিলের শর্ত আরোপ করা হয়। এর বিরোধিতা করে শিক্ষকরা আদালতের দ্বারস্থ হন এবং দাবি করেন, যেহেতু পদগুলি স্থায়ী ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে হয়েছে, তাই তাঁদের নিয়মিত বেতন পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার।
রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, শিক্ষকরা শর্ত জেনেই চাকরি গ্রহণ করেছেন এবং Fixed Pay নীতি মন্ত্রিসভা অনুমোদিত ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে গৃহীত। সিঙ্গল জজ বেঞ্চ সেই যুক্তি মেনে রিট পিটিশন খারিজ করেছিল। তবে ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় বাতিল করে জানিয়েছে, “Equal Pay for Equal Work” নীতি সংবিধানের ১৪, ১৬ ও ৩৯(d) অনুচ্ছেদের মূল আত্মা। একই কাজ, একই যোগ্যতা ও একই দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নিয়োগের তারিখের কারণে ভিন্ন বেতন দেওয়া ইচ্ছাকৃত ও অযৌক্তিক বৈষম্য।
আদালত আরও জানিয়েছে, স্থায়ী পদে নিয়ম মেনে নির্বাচিত হওয়ায় শিক্ষকরা Regular Appointee এবং তাঁদের ক্ষেত্রে Regular Pay প্রযোজ্য। ২০০১ ও ২০০৭ সালের Fixed Pay সংক্রান্ত মেমোরান্ডামগুলিকে আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছে। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, মন্ত্রিসভার অনুমোদন থাকলেও কোনো নীতি সংবিধান বিরোধী হলে আদালত তা বাতিল করতে পারে। আর্থিক সংকটের যুক্তিও খারিজ করে বলা হয়েছে, সরকার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেনি।
রায়ে আরও বলা হয়, বিজ্ঞপ্তিতে যখন স্থায়ী পদের কথা বলা হয়েছে, তখন পরে ‘Temporary’ বলে নিয়োগ দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। রাষ্ট্র নিজ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে যেতে পারে না— Doctrine of Estoppel against State প্রযোজ্য। পাশাপাশি আদালত জানায়, মৌলিক অধিকার কখনোই ত্যাগ করা যায় না; চাকরির শর্ত মেনে নেওয়া মানেই অসাংবিধানিক শর্ত বৈধ হয়ে যায় না।
চূড়ান্ত রায়ে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে—
শিক্ষকদের যোগদানের দিন থেকেই Notional Regular Pay গণনা করতে হবে এবং মামলা দায়েরের আগের তিন বছরের Actual Arrears ৯ শতাংশ সুদসহ তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও সরকারকে প্রত্যেক শিক্ষককে ২০০০ টাকা করে মামলা খরচ দিতে হবে।
এই রায়কে রাজ্যের শিক্ষক সহ অন্যান্য ফিক্সড পে কর্মচারী সমাজের জন্য এক ঐতিহাসিক জয় বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে Fixed Pay প্রথার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছিল, এই রায় তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিল বলেই মত অভিজ্ঞ মহলের।
Tribute Program : প্রয়াত অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের স্মরণে বিধানসভায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন