আগরতলা, ০৫ অক্টোবর : রাজ্যে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনই একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। খোয়াই জেলার চম্পাহাওরে গণনা কেন্দ্রের বাইরে তিপ্রা মথা ও আইপিএফটির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিপ্রা মথার নেতা মতিলাল কর্মকার (৫৭)-এর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর স্ত্রী দাবি করেছেন, মতিলাল কর্মকার তিপ্রা মথার নেতা ছিলেন। অন্যদিকে তিপ্রা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জের ফলেই মতিলাল কর্মকারের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।
চম্পাহাওরে সংঘর্ষের সময় গুলতির আঘাতে ডিএসপি অর্ঘ্যদীপ লস্করসহ একাধিক পুলিশ ও টিএসআর জওয়ান আহত হন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে গুরুতর আহত মতিলাল কর্মকারকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে গোমতী জেলার পুলিশ সুপারের উপর হামলার অভিযোগের পর এবার রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের আইজি মনচাক ইপ্পারের গাড়িতে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। থলিবাড়ি গণনা কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে তাঁর গাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তবে আইজি মনচাক ইপ্পার জানিয়েছেন, ঘটনায় কেউ শারীরিকভাবে আহত হননি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
ধলাই জেলার সালেমায় ভিলেজ কমিটির ভোট গণনা কেন্দ্রকে ঘিরেও উত্তেজনা দেখা দেয়। তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামে সিপিআই(এম)। পরে মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কার্যালয় ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানায় বামেরা।
তবে সংঘাত ও অভিযোগের পাশাপাশি নির্বাচনী ফলাফলে বিভিন্ন এলাকায় সিপিআই(এম)-এর কিছুটা প্রত্যাবর্তনের ছবিও দেখা গেছে। লালজুরি ব্লকের শান্তিপুর ভিলেজে প্রথমবার সিপিআই(এম)-এর হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুই তরুণ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বকাফা ব্লকের বীরচন্দ্র মনুতে দুটি এবং রাজাপুরে একটি আসনে সিপিআই(এম) প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এছাড়াও কাঞ্চনপুরের দশদা-দাশমুনি ভিলেজ কমিটিতে দুটি এবং সাব্রুমের রূপাইছড়ি আরডি ব্লকের পূর্ব লুধুয়া ভিলেজ কমিটিতে একটি আসনে সিপিআই(এম) প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
অন্যদিকে সামগ্রিক ফলাফলে তিপ্রা মথার ব্যাপক আধিপত্য স্পষ্ট হয়েছে। মোট ২,৮০৯টি আসনের মধ্যে তিপ্রা মথা ২,৩৫১টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিজেপি পেয়েছে ৩৫৯টি আসন। নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৫৮টি আসনে। সিপিআই(এম) ২১টি, কংগ্রেস ১০টি এবং আইপিএফটি ১০টি আসনে জয় পেয়েছে।
ফলাফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী এনডিএ-র ফলাফল হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিক ফলাফল থেকে স্পষ্ট, ভিলেজ কমিটি স্তরে তিপ্রা মথা তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় প্রমাণ দিয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপি দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষ, মৃত্যু, পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি ফলাফলের এই চিত্র আগামী দিনে ত্রিপুরার গ্রামীণ রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
New Word Office : আগরতলা পুরনিগমের ৪৩নং ওয়ার্ডের দ্বিতল ওয়ার্ড অফিসের উদ্বোধন


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন