আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর : সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে রাজ্য সরকার এবার থেকে ‘স্টেট রোড সেফটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করবে। বুধবার সচিবালয়ের ভিডিও কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত স্টেট রোড সেফটি কাউন্সিল-২০২৬-এর সভায় এই ঘোষণা দেন পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
মন্ত্রী জানান, সড়ক নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ১১টি ক্ষেত্রে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে—সড়ক নিরাপত্তায় সেরা জেলা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সেরা জেলা, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হ্রাসে সেরা জেলা, সড়ক নিরাপত্তায় সেরা থানা, সেরা হাসপাতাল বা ট্রমা কেয়ার সেন্টার, সেরা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, সেরা সড়ক প্রকৌশলী উদ্যোগ, সেরা ফায়ার সার্ভিস পরিষেবা, দুর্ঘটনার সেরা তদন্ত, সেরা সহায়তাকারী ‘রাহবীর’ এবং পরিবহণ বিভাগের কার্যকরী উদ্যোগ।
পরিবহণমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও প্রাণহানি কমানোর বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্ধারিত সড়ক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী আরও তৎপরতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি আরও জোরদার করার কথাও বলেন।
সভায় পরিবহণ কমিশনার সুব্রত চৌধুরী সড়ক নিরাপত্তায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিবহণ দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। ভার্চুয়ালি প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা সভায় অংশ নেন। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
এদিন পরিবহণ দপ্তরের উদ্যোগে সচিবালয়ের ১ নম্বর কনফারেন্স হলে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ‘রাহবীর’ বা ‘গুড সামারিটান’-দেরও সম্মানিত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপকদের হাতে ২৫ হাজার টাকা ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
গোমতী জেলার কাজল দেবনাথ ও প্রসেনজিৎ ভৌমিক (যুগ্মভাবে), অশেষ দাস, খুরশিদ মিয়া ও অজিত দাস; ধলাই জেলার সত্যজিৎ কুমার শীল ও সত্যরঞ্জন দেবনাথ এবং ঊনকোটি জেলার লতিকা সিনহা—দুর্ঘটনার পর বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হয়।
‘রাহবীর’ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার মুহূর্তে ভয় বা দ্বিধা দূরে সরিয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ সড়ক নিরাপত্তার পাশাপাশি সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন