আগরতলা, ৩১ অক্টোবর : রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরাও সৃজনশীলতা এবং উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক প্রতিভায় কোন অংশেই কম নয়। তাঁদের প্রতিভা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠা আমাদের রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করছে। জাতি-জনজাতি অংশের মানুষের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি এ রাজ্যের মানুষকে দৃঢ় ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনে আবিষ্ট করেছে। শুক্রবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকীভবনে তিনদিনব্যাপী কলা উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ। আজকের এই অনুষ্ঠানে মোট ৭৮ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এরমধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী জাতীয়স্তরে কলা উৎসবে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করবে।
উল্লেখ্য, সমগ্র শিক্ষা মিশনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করেন। এবছর এই কলা উৎসবের থিম ছিল 'বিকশিত ভারত-এ ভিশন ফর ভারত ইন দ্য ইয়ার ২০৪৭'। অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ আরও বলেন, কলা উৎসব কেবলমাত্র রাজ্যের নবীন শিল্পীদের প্রতিভাকে উজ্জ্বীবিত করেনি, বরং তাদের মধ্যে সৃজনশীল মনোভাবের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের চেতনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। আমাদের দেশে কলাকে বলা হয় আত্মার ভাষা এবং শিক্ষা হলো জীবনের আলো। শিল্প ও সংস্কৃতি আমাদের শেখায় সহমর্মিতা ও মানবিকতা।
জেলাস্তরের কলা উৎসব প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩ হাজার জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে প্রায় ২০০ জন রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় সুযোগ লাভ করে। এরমধ্যে একক নৃত্যে প্রথম হয়েছেন ঊনকোটি জেলার নেতাজী বিদ্যাপীঠ ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ছাত্রী ঐশিকি ভট্টাচার্যি, দ্বিতীয় হয়েছেন সাব্রুম ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ছাত্রী নবনীতা দেবনাথ, তৃতীয় হয়েছেন আমবাসা ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ছাত্রী অন্বেষা দেব। দলগত নৃত্যে প্রথম হয়েছে গোমতী জেলার চন্দ্রপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় হয়েছে ধলাই জেলার কুলাই দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়, তৃতীয় হয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বকাফা আশ্রম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিকে (সোলো মেলোডিক) প্রথম হয়েছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার গোল্ডেনভ্যালী দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের আরুষি দাস, দ্বিতীয় হয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার রাঙ্গামুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নয়ন শীল, তৃতীয় হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর বিদ্যামন্দির বিদ্যালয়ের দীবাকর দাস। ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিকে (সোলো পারকিউশন) প্রথম হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের ভার্গব কর, দ্বিতীয় হয়েছে উনকোটি জেলার ডলুগাঁও দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের সানু শর্মা, তৃতীয় হয়েছে খোয়াই জেলার খোয়াই সরকারি ইংরাজি মাধ্যম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অম্বি দেবনাথ।
দলগত ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিকে প্রথম হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, দ্বিতীয় হয়েছে খোয়াই জেলার বিবেকানন্দ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তৃতীয় হয়েছে ঊনকোটি জেলার নেতাজী বিদ্যাপীঠ ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়। ভোকাল মিউজিকে (একক) প্রথম হয়েছে ধলাই জেলার কমলপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের শ্রেয়শ্রী পাল, দ্বিতীয় হয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পিলাক পাবলিক স্কুলের উপমা মজুমদার, তৃতীয় হয়েছে উমাকান্ত একাডেমি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের রামেশ্বর ভট্টাচার্য। ভোকাল মিউজিক (দলগত) প্রথম হয়েছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার পিএম-শ্রী ধর্মনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, দ্বিতীয় হয়েছে গোমতী জেলার জলেমাবাড়ি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তৃতীয় হয়েছে খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
দলগত নাটক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ঊনকোটি জেলার পাবিয়াছড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ক্ষুদিরাম বসু ইংরেজি মাধ্যম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তৃতীয় হয়েছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার গোল্ডেনভ্যালী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ট্রেডিশনাল স্টোরি টেলিং প্রতিযোগিতায় (দলগত) প্রথম হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মনফোর্ট ইংরেজি মাধ্যম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় হয়েছে গোমতী জেলার ত্রিপুরাসুন্দরী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তৃতীয় হয়েছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ভিস্যুয়াল আর্টে (২ডি সোলো) প্রথম হয়েছে হলিক্রস হাইস্কুলের উৎকর্ষি মজুমদার, দ্বিতীয় হয়েছে উদয়পুর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের প্রশস্তিকা দেবনাথ, তৃতীয় হয়েছে নয়াপাড়া সরকারি ইংরেজি মাধ্যম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রিক্তা নাথ। ভিস্যুয়াল আর্টে (৩ডি সোলো) প্রথম হয়েছে গোমতী জেলার পালাটানা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঈপ্সিতা মজুমদার, দ্বিতীয় হয়েছে উনকোটি জেলার টিলাবাজার উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবীর নমঃ, তৃতীয় হয়েছে ধলাই জেলার কুলাই দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের সুরজিৎ দে। ভিস্যুয়াল আর্টে (গ্রুপ)-এ প্রথম হয়েছে খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় হয়েছে উনকোটি জেলার পেঁচারথল উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তৃতীয় হয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বি কে ইনস্টিটিউশন।
আজকের এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, মধ্যশিক্ষা অধিকারের অধিকর্তা এন সি শর্মা, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা এবং এসসিইআরটি'র অধিকর্তা এল ডার্লং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমগ্র শিক্ষা রাজ্য প্রকল্প অধিকর্তা রাজীব দত্ত।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন