আগরতলা, ১৫ জানুয়ারি : নিপা ভাইরাস সম্পর্কে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে রাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের এম.ডি. সাজু বাহিদ এ. একথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, নিপা ভাইরাস একটি সংক্রমক রোগ, যা মূলত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমিত মানুষের থেকেও ছড়াতে পারে। ভারতে ২০১৮ সাল থেকে কেরালা রাজ্যে সীমিত আকারে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কেরালার কয়েকটি জেলায় এই রোগে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২টি সংক্রমণের ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে। যদিও বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে এই ভাইরাসের কোনও সংক্রমণ নেই।
সাংবাদিক সম্মেলনে এ.জি.এম.সি.'র ডিপার্টমেন্ট অব মাইক্রোবায়োলোজির এইচ.ও.ডি. ডা. তপন মজুমদার বলেন, এই ভাইরাস মূলত সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ। তিনি জানান, নিপা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান কারণগুলি হলো- বাদুড় দ্বারা দূষিত কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া, বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকা দূষিত ফল খাওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা কাশি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। এরকম কোনও প্রকার লক্ষণ দেখা দিলে বা জ্বর এলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। কোনও জ্বরকেই অবহেলা না করার পরামর্শ তিনি দেন। আর.টি.পি.সি.আর. পদ্ধতিতেই এই রোগ সনাক্ত করা হয়। আগরতলা মাইক্রোবায়োলোজি ডিপার্টমেন্টে এই রোগ পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে।
সাজু বাহিদ এ. বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তর সবগুলি জেলা হাসপাতালে আইসোলেশন বেড চিহ্নিত করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জিবি হাসপাতালেও আইসোলেশন বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডায়গনষ্টিকসের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দপ্তর তৈরি রয়েছে। এন.এইচ.এম.-এর এম.ডি. জনসাধারণকে এই রোগ থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ ও সতর্কতা বিষয় সম্পর্কে জানাতে গিয়ে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকা, ফল ভালোভাবে ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া, মাটিতে পড়ে থাকা আধ খাওয়া ফল না খাওয়া, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার রাখা, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা সম্পর্কে সচেতন থাকা, সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলা ইত্যাদির উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাজু বাহিদ এ. বলেন, অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি গুজব থেকে দূরে থাকার এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে ডাইরেক্টর অব হেলথ সার্ভিসের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা জানান, সব দিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্য দপ্তর সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশ জারি করা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন উপসর্গযুক্ত রোগীকে দ্রুত চিহ্নিত করার উপর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন এবং একটি রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। অক্সিজেনের মজুত স্বাভাবিক রাখতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা ডা. নির্মল সরকার।
Crime : পুলিশের চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ১০৩২৩ স্বামী ও তার স্ত্রী


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন