নতুন দিল্লি, ১৫ মার্চ : দেশের পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ। মোট ৮২৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতে, প্রথম দফায় ভোট হবে আসাম এবং কেরালা-তে আগামী ৯ এপ্রিল। অসমে ১২৬টি আসনে এক দফাতেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে কেরলের ১৪০টি বিধানসভা আসনেও এক দফায় ভোটগ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরি-র ৩০টি আসনেও ওই দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল। তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে এক দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ওই দিনেই। তবে পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল, যেখানে ১৫২টি আসনে ভোট হবে। প্রথম দফায় গোটা উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল, যেখানে দক্ষিণবঙ্গের বাকি থাকা ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন আট দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রাজ্যে উপনির্বাচনের কথাও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গুজরাট, গোয়া, ত্রিপুরা এবং নাগাল্যান্ড-এর একটি করে আসনে এবং কর্নাটক ও মহারাষ্ট্র-এর দুটি করে আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গোয়া, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় উপনির্বাচন হবে ৯ এপ্রিল। অন্যদিকে গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল। এই আটটি আসনের ভোটগণনা হবে আগামী ৪ মে।
ত্রিপুরার ক্ষেত্রে ৫৬-ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার)। জানা গেছে, প্রয়াত রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন-এর মৃত্যুর ফলে এই আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে। সেই কারণেই এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপনির্বাচন সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হবে ১৬ মার্চ ২০২৬। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৩ মার্চ, মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে ২৪ মার্চ এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ মার্চ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন