আগরতলা, ১৩ আগস্ট : রাজ্য সরকারের কোনও দপ্তরে জুনিয়র কর্মচারীদের তুলনায় সিনিয়ররা যেন বেতন কম না পান তা সুনিশ্চিত করার জন্য গতকাল অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের অধীনে কর্মরত কর্মচারীরা আরওপি রুলস, ২০১৭ অনুযায়ী, যদি কোনও কর্মচারী পদোন্নতি না পান, তাহলে ১০, ১৭ এবং ২৫ বছর নিরবচ্ছিন্ন ও সন্তোষজনক চাকরি সম্পন্ন করার পর মোডিফায়েড ক্যারিয়ার প্রোগ্রেশন স্কিম (এম.এ.সি.পি.)-এর আওতায় আর্থিক সুবিধা বা আর্থিক উন্নীতকরণের জন্য যোগ্য হন। কোনও ক্যালেন্ডার বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে এম.এ.সি.পি.এস.-এর সুবিধা গ্রহণের কারণে কিছু সিনিয়র কর্মচারী তাঁদের জুনিয়র কর্মচারীদের তুলনায় বেতনজনিত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। এর কারণ, তাঁদের বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির (অ্যানুয়াল ইনক্রিমেন্ট) তারিখ পরবর্তী বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে যাচ্ছিল।
এর আগে অর্থ দপ্তর মেমোরেন্ডাম নং F.7(2)-FIN(PC)/2018/592-792, dated 30.09.2023-এর মাধ্যমে যেসব কর্মচারীর পরবর্তী বেতনবৃদ্ধির তারিখ (ডেট অব নেক্সট ইনক্রিমেন্ট বা ডি.এন.আই.) পরবর্তী বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে গিয়েছিল, তাঁদের এম.এ.সি.পি.-এর সুবিধা ডি.এন.আই.-এর তারিখে গ্রহণের জন্য বিকল্প (অপশন) বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। এম.এ.সি.পি.-এর কারণে ডি.এন.আই.-এর তারিখে মূল বেতন (বেসিক পে) নির্ধারণের জন্য ওই বিকল্প জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১.১০.২০২৩।
তবে বিকল্প প্রদানের ক্ষেত্রে ৩১.১০.২০২৩ তারিখকে শেষসীমা হিসেবে নির্ধারণ করার ফলে সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মচারীদের মধ্যে বেতনগত অসামঞ্জস্য (পে এনোমালি) অব্যাহত ছিল। এই অসামঞ্জস্য দূর করার লক্ষ্যে ১২.০৮.২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ডি.এন.আই.-এর তারিখে এম.এ.সি.পি.-এর কারণে বেতন নির্ধারণের জন্য বিকল্প প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শেষসীমা, অর্থাৎ ৩১.১০.২০২৩, প্রত্যাহার করা হবে।
এছাড়াও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পূর্বে নির্ধারিত শেষসীমার কারণে যে সমস্ত কর্মচারী কোনও কারণে ওই সময়ে বিকল্প প্রদান করতে পারেননি, তাঁদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু কর্মচারী উপকৃত হবেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন