আগরতলা, ৩১ জুলাই : ত্রিপুরার স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আর্থিকভাবে সক্ষম ও জনমুখী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের (Sixth State Finance Commission) প্রতিবেদন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রী অভিষেক সিং, আইএএস, সদস্য ড. পল্লব কান্তি ঘোষাল এবং সদস্য-সচিব ড. অকিঞ্চন সরকার, আইএএস মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধানের ২৪৩(আই) ও ২৪৩(ওয়াই) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে ত্রিপুরা সরকার ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশন গঠন করে। কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন শ্রী অভিষেক সিং, আইএএস। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক (অব.) ড. পল্লব কান্তি ঘোষাল এবং সদস্য-সচিব ছিলেন অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ড. অকিঞ্চন সরকার, আইএএস।
কমিশনের প্রধান দায়িত্ব ছিল রাজ্যের পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠান, নগর স্থানীয় সংস্থা (Urban Local Bodies) এবং ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC)-এর আর্থিক অবস্থার পর্যালোচনা করা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আর্থিক সম্পদ বিভিন্ন স্তরের গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থা, নগর স্থানীয় সংস্থা এবং টিটিএএডিসির মধ্যে বণ্টনের নীতি নির্ধারণ, স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপায় এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্বও কমিশনের ওপর অর্পিত হয়েছিল।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা কমিশনের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্থানীয় স্বশাসন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশগুলি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে এবং স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার পাশাপাশি রাজ্যের সর্বত্র সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অপরদিকে, কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রী অভিষেক সিং কমিশনের কাজের সময় সহযোগিতা ও মূল্যবান মতামত প্রদানের জন্য গ্রামীণ উন্নয়ন (পঞ্চায়েত) দপ্তর, নগর উন্নয়ন দপ্তর, অর্থ দপ্তর, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় স্বশাসন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, কমিশনের প্রতিবেদনটি শিগগিরই রাজ্য মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের এই প্রতিবেদন ত্রিপুরায় আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণকে আরও শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
Development Initiative : খোয়াইয়ে এআই-ভিত্তিক অঙ্গনওয়াড়ি সহ ৮.০৯ কোটি টাকার ৭ প্রকল্পের উদ্বোধন


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন