Multilevel Car Parking : আগরতলায় নবনির্মিত মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের উদ্বোধন - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Multilevel Car Parking : আগরতলায় নবনির্মিত মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের উদ্বোধন

Share This

 


আগরতলা, ০৮ অক্টোবর : আগরতলা শহরের যানজট ও পার্কিং সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি আধুনিক নাগরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হযেছে। আজ আগরতলার পুরাতন মোটরস্ট্যান্ড রোডে নবনির্মিত মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা বলেন।


অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য বারবার প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে সঠিক সমযে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়ে আজ এর পথচলা শুরু হলো। তিনি বলেন, একসময় পুরাতন মোটরস্ট্যান্ড এলাকাটি বিশৃঙ্খলা ও নানা ধরনের সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। বিগতদিনে দলীয় ইউনিয়নের নামে জোরজবরদস্তি করে জমি দখল করে রাখা হতো এবং গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে অহেতুক আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি করা হত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হযেছে।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার কোনও শ্রমিক বা গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে নয়। তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করেই তাঁদের বসার এবং গাড়ি রাখার সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগরতলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে আধুনিকতার ছোঁয়া এনে রাজ্যকে সাজিয়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বর্তমান সরকার একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করে চলেছে। আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের শহর এলাকায় উন্নয়নের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।


এই প্রকল্পের বিশেষত্বের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের জন্য সরকারের এক পয়সাও ব্যয় হয়নি। বরং জায়গা ব্যবহারের বিনিময়ে বেসরকারি বিনিযোগকারী সংস্থা সরকারকে ল্যান্ড প্রিমিয়াম অফার করেছে। এরফলে প্রতি বছর বার্ষিক ফি প্রদানের মাধ্যমে সরকারের স্থায়ী আযের পথও সুগম হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই বহুতল কার পার্কিং চালু হওয়ার ফলে আগরতলা শহরের যানজট অনেকটাই হ্রাস পাবে। রাস্তায় বেআইনি পার্কিং করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। একই ধরনের পার্কিং ব্যবস্থা শহরের আরও কয়েকটি এলাকাতেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায় সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হল বিরাট সংখ্যক স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। তিনি আরও জানান, বাধারঘাটে একটি বৃহৎ 'ইউনিটি মল' তৈরির কাজ চলছে এবং আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সেটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রী এই কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিনিযোগকারী সংস্থাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।


রাজ্যের নাগরিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের আধুনিক উদ্যোগকে সফল করে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোথাও যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা বা ঝামেলার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। রাজ্যের বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যে ইতিবাচক হাওয়া বইছে, তা বজায় রেখে ত্রিপুরাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।


অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, এই দিনটি আগরতলাবাসীর পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যবাসী এবং শহরে আসা পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। মুখ্যমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এই আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে আগরতলা শহরের জনসংখ্যা ও নাগরিক চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি রেল যোগাযোগের সম্প্রসারণের ফলে পুরাতন মোটরস্ট্যান্ডের ওপর চাপও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগিয়ে শহরের যানজট নিরসনে আধুনিক মাল্টিলেভেল পার্কিং ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট ও নিরাপদ জায়গায় গাড়ি পার্কিংযের পাশাপাশি শহরের যানজট ও সৌন্দর্যায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, আগরতলা শহরের সার্বিক উন্নয়নে স্মার্ট মিটি মিশন, নগর উন্নয়ন দপ্তর, পুরনিগম-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বেসরকারি বিনিযোগকারীরাও এই ধরনের বৃহৎ প্রকরে এগিয়ে আসছেন।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তিরুপতি লিমিটেডের অধিকর্তা উমান্ড মিণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, কর্পোরেটর রত্না দত্ত, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে, নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, পুরনিগমের কমিশনার সাজু ওয়াহিদ, এ প্রমুখ। ধণ্যবাদ জ্ঞাপন করেন আগরতলা স্মার্ট সিটি লিমিটেডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক জি. নায়েক। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে নবনির্মিত কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেন এবং এর বিভিন্ন পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবগত হন।






Cabinet Disition : রেশন কার্ডধারীদের বিনামূল্যে সুজি-ময়দা-চিনি, ৫৮৮ শূন্যপদে নিয়োগ, ৯১৯ নতুন পদ সৃষ্টি



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad