আগরতলা, ১ আগস্ট : আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (এজিএমসি) ও জিবিপি হাসপাতালকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম উৎকর্ষ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং সুপার স্পেশালিটি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রে পরিণত করতে রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ত্রিপুরাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। শনিবার আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (এজিএমসি) ও জিবিপি হাসপাতালের ২২তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কেএলএস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক তথা প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় ত্রিপুরায় সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই ছিল অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু আজ এজিএমসি শুধু চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং সুপার স্পেশালিটি পরিষেবার ক্ষেত্রেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান শুধু রোগ নিরাময়ের কেন্দ্র নয়, এটি মানবসেবা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ (এজিএমসি) এবং বিবেকনগরস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার মাধ্যমে রামকৃষ্ণ মিশনের 'নিরাময়' মেডিক্যাল সার্ভিস ইউনিটকে এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের অধীনে অতিরিক্ত আরবান হেলথ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এর ফলে কমিউনিটি-ভিত্তিক চিকিৎসা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে। এ উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী রামকৃষ্ণ মিশনের দীর্ঘদিনের মানবকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মানবসেবায় রামকৃষ্ণ মিশনের অবদান সমগ্র দেশের কাছেই অনুকরণীয়। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি আজকের অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কৃতী চিকিৎসক শিক্ষার্থীদের তাদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ স্মারক ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীসহ উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ তাঁদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।
এদিন অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে এক অসচ্ছল স্বাস্থ্যকর্মীকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার টাকার চেক মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আসামের বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় আসাম মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের জন্য এক লক্ষ টাকার চেক সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠনের স্বাগত ভাষণ দেন এজিএমসি-র অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. তপন মজুমদার। তিনি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, এজিএমসি-র ২২তম প্রতিষ্ঠা দিবস চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার অগ্রযাত্রার এক গর্বের মুহূর্ত। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ জিবিপি হাসপাতাল এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. বিধান গোস্বামীও। ধণ্যবাদ জ্ঞাপন করেন জিবিপি হাসপাতালের ডেপুটি মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. কনক চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জিবি রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক মিনারানী সরকার, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, ত্রিপুরা জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর সাজু বাহিদ এ, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, মেডিক্যাল এডুকেশনের ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. অভিজিৎ দত্ত, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা পরিষেবার অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস, বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী শুভকারানন্দ মহারাজ প্রমুখ।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন