আগরতলা, ২৬ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার ‘মন কি বাত’-এর ১৩৬তম পর্বে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশের বাদ্যযন্ত্র ‘চৌংপ্রেং’ এবং তার সংরক্ষণ ও প্রসারে লোকশিল্পী সূরজ কুমার দেববর্মার অনন্য উদ্যোগের বিশেষ উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকৃতির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী এক বার্তায় বলেন, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন এই তিন তারবিশিষ্ট বাঁশের বাদ্যযন্ত্রটি ত্রিপুরার জনজাতি সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর সুমধুর সুরের সঙ্গে সরোদের সুরের সাদৃশ্য রয়েছে। সময়ের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে গেলেও, সূরজ কুমার দেববর্মার নিরলস প্রচেষ্টায় ‘চৌংপ্রেং’ আবারও নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিতি ও মর্যাদা ফিরে পাচ্ছে।
‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতে অসংখ্য বাদ্যযন্ত্র ও তার সঙ্গে জড়িত সমৃদ্ধ পরম্পরা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি ত্রিপুরার চৌংপ্রেং-এর কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বাঁশের তৈরি এই বাদ্যযন্ত্রে তিনটি তার থাকে এবং এর সুর অত্যন্ত মধুর, যা অনেকটা সরোদের সুরের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি আরও বলেন, যুবসমাজের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছিল, কিন্তু সূরজ কুমার দেববর্মা এটিকে পুনরায় জনপ্রিয় করে তোলার সংকল্প নিয়েছেন এবং তাঁর প্রচেষ্টার সুফল আজ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সূরজ কুমার দেববর্মা শুধু চৌংপ্রেং নয়, ত্রিপুরার অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রও বাজিয়ে থাকেন। ককবরক লোকগান, বাউল গান এবং বাংলা লোকগানের সঙ্গে এই বাদ্যযন্ত্রের সুর বিশেষভাবে মানানসই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রোতাদের জন্য চৌংপ্রেং-এর সুরের একটি সংক্ষিপ্ত অডিও ক্লিপও শোনান এবং বলেন, এই সুর একবার শুনলে সহজে ভোলা যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, ত্রিপুরার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি বাদ্যযন্ত্রের পরিচিতিই বাড়াননি, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকেও দেশের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ ত্রিপুরার শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং জনজাতি সমাজকে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজ্যের সাংস্কৃতিক মহলে প্রধানমন্ত্রীর এই উল্লেখকে ত্রিপুরার লোকসংস্কৃতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিল্পী মহলের মতে, এর ফলে চৌংপ্রেং সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আরও উৎসাহ ও উদ্যোগ তৈরি হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন