CJP Protection: তীব্র আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েনের অবসান - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

CJP Protection: তীব্র আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েনের অবসান

Share This


 নতুন দিল্লি, ২৫ জুলাই : দীর্ঘ আন্দোলন, টানা বিক্ষোভ এবং তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট (এন‌.ই.ই.টি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শুরু থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল— শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।


শনিবার বিকেলে সরকারের সঙ্গে সিজেপি-র তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই বৈঠকের আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।


সিজেপি সরকারের কাছে তিন দফা দাবি পেশ করেছিল। প্রথম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবিতে সরকার ইতিবাচক অবস্থান নিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল। অবশেষে শনিবার সেই দাবিও মেনে নেওয়া হয়।


ইস্তফার ঘোষণা করে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত দশ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি জানান, চার দশক ধরে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বদা শ্রদ্ধা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জীবনের বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।


নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়ার পর থেকেই তিনি ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য, কোনও মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে, সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশবিরোধী শক্তি যাতে সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য বজায় থাকে এবং পড়ুয়ারা যাতে আইনি জটিলতার পরিবর্তে নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে মনোনিবেশ করতে পারে, সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর ২০ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর স্বার্থে দ্রুত পুনরায় নিট পরীক্ষা আয়োজন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ নিশ্চিত করাই ছিল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং মহল শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, যা তাঁকে ব্যথিত করেছে।


এদিকে, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর অন্যতম দাবিও ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। যদিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগেই অনশন ভাঙায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। অনশন পর্বে তাঁর প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে যায়। অনশন প্রত্যাহারের মাত্র দু'দিন পরই শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে।


ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সিজেপি-র প্রণেতা দীপক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই সরকারে নাকি ইস্তফা হয় না। ঝুকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুকানে ওয়ালা চাহিয়ে।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর দেশজুড়ে।







Tragic Incident : পশ্চিম মুহুরীপুরে বাবা-মাকে হত্যার পর আত্মঘাতী ছেলে !


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad