আগরতলা, ১১ আগস্ট : ত্রিপুরার ক্রীড়াঙ্গনে এক ঐতিহাসিক সাফল্যের নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন রাজ্যের কন্যা অস্মিতা দে। কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জিতে শুধু ত্রিপুরা নয়, সমগ্র ভারতকে গর্বিত করেছেন এই প্রতিভাবান জুডোকা। তাঁর এই অনন্য সাফল্যকে সম্মান জানাতে ত্রিপুরা সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে আগামী ১২ আগস্ট, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক বিশেষ ‘গ্র্যান্ড রিসেপশন ও ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম’।
আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের হল নম্বর ১-এ আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অস্মিতা দে-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হবে। রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ এবং ক্রীড়াজগতের কাছে এই অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে এক বিশেষ আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত হয়ে উঠতে চলেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে থাকবেন রাজ্যের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিঙ্কু রায় এবং আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব তাপস রায়, আইএএস। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত দীপা কর্মকার।
অস্মিতার সাফল্যে ত্রিপুরার নতুন পরিচয়
অস্মিতা দে-র সাফল্য শুধুমাত্র একটি পদক জয়ের ঘটনা নয়; এটি ত্রিপুরার ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সীমিত পরিকাঠামো ও নানা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে কঠোর অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও লক্ষ্যপূরণের অদম্য মানসিকতার মাধ্যমে অস্মিতা যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা রাজ্যের অগণিত তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে জুডোয় স্বর্ণপদক জিতে অস্মিতা প্রমাণ করেছেন—প্রতিভা ও পরিশ্রমের সঙ্গে সঠিক প্রশিক্ষণ এবং দৃঢ় সংকল্প যুক্ত হলে ত্রিপুরার ক্রীড়াবিদরাও বিশ্বমঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন।
তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা
অস্মিতার এই ঐতিহাসিক সাফল্য রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর সাফল্যকে সামনে রেখে আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণী ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জুডোর মতো খেলায় নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ত্রিপুরা সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনা তাই কেবল একজন সফল ক্রীড়াবিদকে সম্মান জানানোর অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ত্রিপুরার ক্রীড়া-স্বপ্ন, তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজ্যের উজ্জ্বল উপস্থিতিকে উদযাপনের এক গর্বের মুহূর্ত।
অস্মিতা দে-কে ঘিরে এই গ্র্যান্ড রিসেপশন তাই ত্রিপুরার ক্রীড়াঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে—একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্যের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা হয়ে।
Tripura Assembly : ২৭ আগস্ট বসছে ত্রিপুরা বিধানসভার দশম অধিবেশন, সরগরম হতে পারে প্রশ্নোত্তর পর্ব


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন