Durga puja : দুর্গাপূজায় আগরতলায় যান চলাচলে বিশেষ বিধিনিষেধ, ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর নো-এন্ট্রি জোন ঘোষণা - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Durga puja : দুর্গাপূজায় আগরতলায় যান চলাচলে বিশেষ বিধিনিষেধ, ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর নো-এন্ট্রি জোন ঘোষণা

Share This


 আগরতলা, ১৫ অক্টোবর : আসন্ন শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে আগরতলা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যানজট এড়ানো এবং যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন। আগামী ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ত্রিপুরা মোটরযান বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১০৫ নম্বর বিধি এবং মোটরযান আইন, ১৯৮৮-এর ১১৬ ও ১১৭ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকাকে নো-এন্ট্রি জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিধিনিষেধ কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে নো-এন্ট্রি গেট এবং ড্রপ গেট বসানো হবে। বড় পূজামণ্ডপগুলির আশপাশে জনসমাগমের পরিস্থিতি বিবেচনা করে যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সময় মধ্যরাতের পরেও বাড়ানো হতে পারে। তবে জরুরি পরিষেবার যানবাহন অবাধে চলাচল করতে পারবে। নির্দিষ্ট অনুমতিপত্র থাকা যানবাহনের জন্যও কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


প্রশাসনের ঘোষিত নো-এন্ট্রি জোনের মধ্যে রয়েছে নর্থ গেট–রাধানগর–সার্কিট হাউস–নেহরু পার্ক এলাকা, ভলকান ক্লাব–ভগবান ঠাকুর চৌমুহনী–বোধজং চৌমুহনী–নর্থ গেট সংলগ্ন সড়ক, চন্দ্রপুর থেকে অভয়নগর সচিন সেতু হয়ে ইন্দ্রনগর ব্রিজের বাঁধের রাস্তা এবং ইন্দ্রনগর ব্রিজের উত্তর দিক থেকে ধলেশ্বর জেল রোড। এ ছাড়াও প্রান্তিক ক্লাব–পুরাতন সেন্ট্রাল জেল ক্রসিং–লালবাহাদুর চৌমুহনী, আশ্রম চৌমুহনী–কল্যাণী ক্রসিং–জয়গুরু ক্রসিং–মঠ চৌমুহনী–পুরাতন মোটরস্ট্যান্ড–গান্ধীঘাট–গ্র্যান্ডিওজ চৌমুহনী–গোল বাজার এলাকা এবং কামান চৌমুহনী–শিববাড়ি–সেন্ট্রাল রোড–গোল বাজার রুটে বিধিনিষেধ থাকবে।


এ ছাড়া মোটরস্ট্যান্ড–চিত্তরঞ্জন রোড–রামঠাকুর সংঘ, রামঠাকুর সংঘ–সুধীর দারোগা বাড়ি রোড ক্রসিং, চিত্তরঞ্জন ক্লাব সংলগ্ন এলাকা, সংহতি ক্লাব এলাকা, বটতলা–দশমীঘাট, জয়নগর বাসস্ট্যান্ড–যুব সমাজ, প্যারাডাইস চৌমুহনী–মেলারমাঠ–বটতলা এবং ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকাতেও যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কয়েকটি রুটে উভয় দিকেই নো-এন্ট্রি কার্যকর থাকবে।


১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৫টা পর্যন্ত বাস, মিনিবাস, জিপ ও হালকা মোটরযানের জন্য নির্ধারিত টার্মিনাল পয়েন্টে যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে পণ্ডিত নেহরু অফিস কমপ্লেক্স, গুর্খাবস্তি, সেখেন্দার চৌমুহনী, এ. কে. রোডের ত্রিনয়নী ক্লাব ক্রসিং, নাগেরজলা বাস টার্মিনাল, এ. ডি. নগর ড্রপ গেট, প্রতাপগড় বেইলি ব্রিজ, চন্দ্রমোহন সেতুর দক্ষিণ দিক, রামঠাকুর বয়েজ স্কুল ব্রিজ, গান্ধী স্কুল–এমবিবি কলেজ এলাকা, চন্দ্রপুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, জিবি ক্যান্সার হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা এবং ইন্দ্রনগর ব্রিজের উত্তর দিক। যাত্রীদের সুবিধার্থে কয়েকটি টার্মিনাল পয়েন্টে রিকশা ও অটোরিকশার ব্যবস্থাও থাকবে।


অন্যদিকে, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনকে নির্ধারিত টার্মিনাল পয়েন্টের বাইরে রাখতে হবে। এই পয়েন্টগুলি হলো আমতলি বাইপাস, খয়েরপুর বাইপাস, মাধববাড়ি, লিচুবাগান এবং বর্ডার গোলচক্কর। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকে বিকেল ৩টার মধ্যে পণ্য খালাস শেষ করতে হবে এবং বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্যারাজে ফিরে যেতে হবে অথবা আগরতলা পুরনিগম এলাকার বাইরে চলে যেতে হবে। অবৈধভাবে পার্ক করা যানবাহন সরাতে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ক্রেনের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে।


দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাত ১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত শহরের উত্তর, মধ্য, পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে কাটাখাল–লেক চৌমুহনী বাজার, রাধানগর বাসস্ট্যান্ড, নর্থ গেটের ভিতরে গ্যাস ও ফ্লেম অফিস সংলগ্ন এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট রোড, নেহরু পার্ক এবং বোধজং চৌমুহনী–ভগবান ঠাকুর চৌমুহনী সংলগ্ন রাস্তা রয়েছে।


মধ্যাঞ্চলে কামান চৌমুহনী–পোস্ট অফিস চৌমুহনী, শকুন্তলা রোড, গোল বাজার–এমবিবি ক্লাব ক্রসিং, গান্ধীঘাট রোড, মেলারমাঠ রোড, অফিস লেন এবং আইজিএম চৌমুহনী–ওরিয়েন্ট চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পূর্বাঞ্চলে মহানামাঙ্গন, গণরাজ চৌমুহনী–পূর্বাশা ক্রসিং, পুরাতন সেন্ট্রাল জেল–আশ্রম চৌমুহনী, উইমেন্স কলেজ–পাওয়ার হাউস ক্রসিং এবং মঠ চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি রাখা যাবে। দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে নাগেরজলা মোটরস্ট্যান্ডের ভিতরে, বটতলার পূর্ব দিকে, রামনগরের অভ্যন্তরীণ রাস্তা এবং রামনগর রোডের কয়েকটি নির্ধারিত অংশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।


হাপানিয়ার টিএমসি থেকে আইজিএম, জিবিপি ও আইএলএস হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত পথের পাশাপাশি বিকল্প পথের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হাপানিয়া–বাধারঘাট–এ. ডি. নগর ফ্লাইওভার হয়ে আইজিএম চৌমুহনী এবং সেখান থেকে নির্ধারিত রুটে হাসপাতালে যাওয়া যাবে। বিকল্প হিসেবে রাধানগর–নর্থ গেট–হারাধন সংঘ–কর্নেল চৌমুহনী–বি. কে. চৌমুহনী–আরএমএস চৌমুহনী হয়ে হাপানিয়ার দিকে যাওয়ার পথ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভয়নগর রোড–উইমেন্স কলেজ–লায়ন্স গেট–ওরিয়েন্ট চৌমুহনী–ফ্লাইওভার–এ. ডি. নগর–বাধারঘাট হয়েও যাতায়াত করা যাবে।


বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বৈধ বিমান টিকিট অথবা বোর্ডিং পাস সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাঁদের ব্যবহৃত গাড়িতে বিমানবন্দর ও রেলযাত্রী স্টিকার লাগাতে হবে। বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে যাওয়া এবং সেখান থেকে গন্তব্যে ফেরার জন্য তাঁরা যেকোনো রাস্তা ব্যবহার করতে পারবেন।


জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে যানজট এড়িয়ে হালকা মোটরযান চলাচলের জন্য কয়েকটি বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই পথগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সেক্টর অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাফিক পুলিশ যেকোনো সময় ঘোষিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, স্থগিত বা পরিবর্তন করতে পারবে।


দুর্গোৎসবের দিনগুলিতে নির্বিঘ্ন যান চলাচল, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাই পুজো দেখতে বেরোনোর আগে সংশ্লিষ্ট যান চলাচলের নির্দেশিকা জেনে নেওয়া এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।





Offer Distribution : স্নাতক শিক্ষক পদে ১ হাজার ৪৫২ জনকে অফার প্রদান, শিক্ষকরাই হলেন নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর : মুখ্যমন্ত্রী


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad