আগরতলা, ১৮ অক্টোবর : আগরতলার ইন্দ্রনগর কালী মন্দির সংলগ্ন বড় ব্রিজের পাশে সঞ্জীব ভৌমিকের বাড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দমকল কর্মীদের প্রায় ৩৭ মিনিটের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ওই বাড়ির একটি ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী অটোচালক খোকন দেবনাথের পরিবার। অটো চালিয়ে সংসার চালান খোকনবাবু। তাঁর স্ত্রীও বিভিন্ন কাজকর্ম করে সংসারের হাল ধরেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা লেখাপড়া করছে। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও খোকনবাবু অটো নিয়ে বাইরে ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রীও কাজে গিয়েছিলেন।
হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নিজের ঘরে আগুন লাগার খবর পান খোকনবাবু। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়িতে ফিরে এসে যে দৃশ্য দেখেন, তা কার্যত তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার শামিল। চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। পরনের কাপড়টুকু ছাড়া কার্যত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তাঁদের।
দিন আনি দিন খাই পরিবারের কাছে এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং নতুন করে জীবন শুরু করার এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে মেয়ের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন খোকনবাবুর পরিবার।
এদিকে, খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩৭ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অগ্নিকাণ্ডে মোট কত টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে।
একটি অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গেল একটি পরিবারের সাজানো সংসার। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সর্বস্ব হারানো খোকন দেবনাথের পরিবার কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। তাঁদের এই দুর্দিনে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
Incident of Theft : দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝে চুরি, সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন