কুমারঘাট, ১২ অক্টোবর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গ দর্শনে সারা রাজ্যে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে সমতলে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এখন উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। রাজ্যকে শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। আজ কুমারঘাটের গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে কুমারঘাট মহকুমায় ২১টি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ভার্চুয়ালি কুমারঘাট মহকুমায় ৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন, ৩টি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, ২টি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রী আবাসের নতুন ভবন, কুমারঘাট মহকুমা শাসক কার্যালয়ের কর্মচারিদের জন্য টাইপ-থ্রি ও টাইপ-ফোর আবাসন, ২টি আরসিসি ফুট ব্রিজ এবং নবনির্মিত ১টি পিচ রাস্তা ও ১টি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন করেন। এজন্য মোট ব্যয় হয়েছে ২৭ কোটি ৯৮ লক্ষ ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে, পেঁচারথলে ৫০০ আসনের মাল্টিপারপাস কমিউনিটি সেন্টার, পেঁচারথল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভার্টিক্যালি এক্সটেনশন ও কুমারঘাট পুর এলাকায় কে এন রোড থেকে পিএম শ্রী পাবিয়াছড়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যলয় পর্যন্ত দু'পাশে রাস্তার মাঝখানে বাগান, বসার জায়গা ও সৌন্দর্যায়নের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা। এজন্য অনুমিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা। প্রকল্পগুলির নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, ত্রিপুরা হাউজিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন বোর্ড এবং টুডা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন রাজকান্দি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্য পরিষেবা ও কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ভার্চুয়ালি সূচনা করেন। গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা বলেন, শারদোৎসবের পূর্বে এই এতগুলি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি উপহার স্বরূপ। তিনি বলেন, উন্নয়ন কিভাবে করতে হয় তা রাজ্যের মানুষ লক্ষ্য করছে ২০১৮ সালের পর থেকে। বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানীয়জল, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে রাজ্যকে শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরায় উন্নীত করতে চাইছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সারা রাজ্যে এবছর এক হাজার কোটি টাকার উপর বিভিন্ন জনমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শান্তি শৃঙ্খলায় একটি উন্নত অবস্থানে রয়েছে বলে বাইরে থেকে এখন উদ্যোগপতিরা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আগরতলায় বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬-এ ১২০০-এর উপর প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। বিদেশের প্রতিনিধিগণও এখানে অংশ নিয়েছিলেন। এই বিজনেস কনক্লেভে ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকার ৪৬৮টি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আরও বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রেও রাজ্য এগিয়ে যাচ্ছে। সাক্ষরতায় ত্রিপুরা এখন দেশে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২১টি মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ১২টি এই জাতীয় স্কুল ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ৬টি স্কুল এর মধ্যেই শুরু হবে। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের স্মার্ট ক্লাস, দক্ষতামূলক শিক্ষার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান, রাস্তা, পানীয়জল, আবাসন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হচ্ছে। ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে ভিবি জিরামজি প্রকল্পে ৮৩ লক্ষের উপর শ্রমদিবস সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় কয়েকশো কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সারা রাজ্যে এখন ৮৬.৬১ শতাংশ পরিবারে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয়জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৩ লক্ষ ৭৬ হাজারের উপর বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। তারমধ্যে ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৯৪৩টি বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যারা দরিদ্র তাদের নিরাপদে থাকার একটা ব্যবস্থা হয়েছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও ত্রিপুরায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজগুলিতে আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিগত কিছু দিন আগে হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের উদ্বোধন হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে আয়ুর্বেদিক হাসপাতালেরও উদ্বোধন হবে। হাসপাতালগুলিতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উপরও সরকার জোর দিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, এই সমস্ত উন্নয়নের একটাই উদ্দেশ্য, ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, সারা রাজ্যের সাথে এডিসি এলাকাগুলিতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, শিল্পের উন্নয়ন ঘটছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত তৈরিতে আমাদেরও ভূমিকা থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু কল্যাণ উন্নয়নমন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, সারা রাজ্যের উন্নয়নের সাথে সাযুজ্য রেখে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উন্নত করতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রকল্পে মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস। সভাপতিত্ব করেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক মেঘা জৈন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি রাজকান্দি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস। অনুষ্ঠান মঞ্চে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি সন্তোষ ধর, কুমারঘাট পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাস, পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, জেলার পুলিশ সুপার রিসভ প্রমুখ।
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা এদিন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পূর্বে গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে স্বসহায়ক দলগুলিকে তাদের ফল, সব্জি ও বিভিন্ন ব্যবসার জন্য তিনটি চার চাকার ভ্যান প্রদান করেন। এছাড়া সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের প্রকল্প থেকে দু'জন দিব্যাঙ্গজনকে দুটি হুইল চেয়ার দেওয়া হয়।
Road Safety : পুলিশ মাঠে সড়ক নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন