আগরতলা, ১৩ এপ্রিল : বৃহস্পতিবার হাঁপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত এক স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে অংশ নেন উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা । উপস্থিত ছিলেন সোসাইটি ফর ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান ডাঃ প্রমথেশ রায়, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপার প্রফেসর ডাঃ জয়ন্ত কুমার পোদ্দার, অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ অরিন্দম দত্ত এবং মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক স্বপন সাহা। এখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোতে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছিল। নির্বাচনের পরে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সহ প্রত্যেককে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। প্রত্যেকেই রাজ্য সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করছে এটা অত্যন্ত ভালো লক্ষণ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের নানা সমস্যা দূরীকরণেও সরকার আন্তরিক। এই কলেজের উন্নতিকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। চিকিৎসক সহ সকলস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
পরে মুখ্যমন্ত্রী আচমকা আগরতলার আইজিএম হাসপাতাল পরিদর্শন করেন । ঘুরে দেখেন হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগ, কথা বলেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে । পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরাকে ভারতবর্ষের মধ্যে মডেল স্টেট হিসেবে গড়ে তুলতে আপ্রাণ কাজ করে চলেছে সরকার । এজন্য স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের উন্নয়নে যা যা করা দরকার সবটাই সরকার করে চলেছে এবং আগামী দিনেও করবে। তিনি বলেন আগে এই হাসপাতালের যে অবস্থা ছিল তার অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে এখন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতিও নজরে এসেছে বলে জানান। এগুলি খুব শীঘ্রই নিরসন করার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব ডঃ দেবাশীষ বসু এবং অধিকর্তা ডাঃ শুভাশিস দেববর্মাকে সঙ্গে নিয়ে আই জি এম হাসপাতালের ওপিডির সব কটি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন । তাঁদের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তৃতভাবে অবহিত হন । একই সাথে তিনি আইপিডি বিভাগ গুলো পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিনের পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা বেশ কিছুটা সময় নেন হাসপাতালে জন ঔষধি বিভাগে। কর্তব্যরত ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে মজুদ ঔষধের চার্ট চেয়ে নেন। পরে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ রোগীদের জন্য যে ঔষধ গুলো দরকার এই কাউন্টারে যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে । চিকিৎসকাও উল্লেখযোগ্যভাবে সংখ্যায় জন ওষুধে প্রেসক্রাইব করছেন। তা অত্যন্ত সদর্থক বলে মন্তব্য করেন তিনি । একই সাথে সকলের প্রতি আহ্বান রাখেন জন ঔষধের উপর আরো বেশি করে আস্থা রাখার জন্য।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন বর্তমান সময়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আপৎকালীন রোগীদের সেবায় ৭টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে । একই সাথে ১০২ তে কল করে সহজেই এম্বুলেন্স পরিষেবা নিতে পারছেন সাধারণ রোগীরা। তবে হাসপাতালের পুরনো ভবনটিতে কিছুটা সমস্যা আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি আরো যে কয়েকটি বিষয়ে ত্রুটি বিচ্যুতি চোখে পড়েছে তা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব এবং অধিকর্তার নজরে নেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালে কর্মরত বেসরকারি সংস্থার সিকিউরিটি গার্ড দের সঙ্গে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মাঝেমধ্যে ঝামেলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সাংবাদিকরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া চাইলে তিনি বলেন, সিকিউরিটি গার্ডরাও মানুষ । যারা চিকিৎসা সেবা নিতে এই হাসপাতালে আসেন তারা মুমূর্ষু এই ভাবনাটা সবার মধ্যে থাকতে হবে। এই বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যেই সংবাদ মাধ্যমে যখন খবর হয়, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোচরে রাখেন বলে জানান। তাই একে অপরের সাথে ভালো ব্যবহার জরুরি বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সাংবাদিকদের আইনশৃঙ্খলা জনিত একটি প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আর কেউ গুন্ডামি করে রাজ করতে পারবেনা । অপরাধী কাউকেই বরদাস্ত করা হবে না।
Dr Manik Saha : অস্মিতার পাশে মুখ্যমন্ত্রী, এখন থেকে সপ্তাহে একবার সরাসরি শুনবেন জনতার অভাব অভিযোগ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন