আগরতলা, ০৫ সেপ্টেম্বর : রাজ্যের সর্বত্র যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো ৬৪তম রাজ্যস্তরীয় শিক্ষক দিবস। এদিন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা শিক্ষক সমাজের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের জীবনে পিতামাতার পর শিক্ষকরাই প্রকৃত পথপ্রদর্শক, উপদেষ্টা এবং জীবন গড়ার মূল কারিগর। শিক্ষকরাই নীতিশিক্ষা, শিষ্টাচার ও ন্যায়বোধের পাঠ দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন, যারা আগামিদিনে রাজ্য ও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানকে। তিনি বলেন, রাধাকৃষ্ণান ছিলেন এক মহান দার্শনিক ও বিশ্ববন্দিত শিক্ষক, যিনি নিজেকে সর্বদা শিক্ষক পরিচয়ে গর্ববোধ করতেন। তাঁর জীবন ও কর্মই শিক্ষকতার মতো মহান পেশার আসল পরিচয় তুলে ধরে। মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও আবেগগত বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সর্বদা সৎ কাজে উৎসাহ দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ বছর পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অতুল দেববর্মা, মহারানী তুলসীবতি পুরস্কার পেয়েছেন ডি সি পাড়া হেমন্ত স্মৃতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রণতী দেববর্মা এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পুরস্কার পেয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষক সমীর চক্রবর্তী। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ৩৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে "শিক্ষক সম্মাননা ২০২৫" প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুরস্কার তুলে দেন।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়েছে। আগামী দিনে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠার পথে। মেডিকেল, ডেন্টাল, নার্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নানা উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখন রাজ্যের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বহু বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। বিদ্যাজ্যোতি বিদ্যালয়ের সাফল্যের কৃতিত্বও তিনি শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে দেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার বলেন, কেবল পাঠদান নয়, শিক্ষকদের দায়িত্ব ছাত্রছাত্রীদের সামগ্রিক জীবন গঠনে। তাই যুগোপযোগী শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষকদের নিজেদেরও ক্রমাগত আপডেট থাকতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে তাঁর দর্শন এবং রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়ন বিষয়ক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
Teachers Day Awards : শিক্ষক দিবসে ১১টি বিভাগে রাজ্যের সেরা বিদ্যালয়গুলিকে সম্মানিত করবে সরকার


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন