তেলিয়ামুড়া, ২৪ অক্টোবর : একটি চারা গাছকে যেমন যত্ন ছাড়া বড় করা যায় না তেমনি একটি শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য সঠিক যত্ন, পুষ্টি ও সঠিক শিক্ষা প্রয়োজন। সুস্থ শৈশব, সুস্থ কৈশোর অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি শিশুকে সঠিক যত্ন, পুষ্টি ও শিক্ষার সুযোগ তৈরী করে দিতে রাজ্য সরকার কাজ করছে। শুক্রবার তেলিয়ামুড়ার চিত্রাঙ্গদা কলাকেন্দ্রে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব, সুস্থ কৈশোর অভিযান ৮.০ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সার্বিক বিকাশের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার অন্যতম স্তম্ভ হল শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উপযুক্ত স্বাস্থ্য। আমাদের আগামী প্রজন্ম যদি সুস্থ না থাকে তবে রাজ্যের ভবিষ্যৎ এবং দেশের ভবিষ্যৎও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, ভিটামিন-এ এর অভাবে দৃষ্টি শক্তির সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন-এ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশ ও সুস্থ জীবনধারা অনুসরণ করার জন্য তাদের উৎসাহিত করতে হবে এবং প্রচার করতে হবে। ১৮ বছর বয়সের আগে বিবাহ এবং মাতৃত্ব মেয়েদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের পথে প্রধান অন্তরায়। এবিষয়ে সচেতন করার জন্য তাদের পরিবার এবং সমাজকে বিশেষ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই অভিযান শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগ নয়। এটি ভবিষ্যৎ ত্রিপুরা গড়ার মিশন। এই মিশন সফল করতে প্রতিটি পরিবার, সমাজ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন এসেছে, অনেক আধুনিক হয়েছে। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ সহ বিভিন্ন হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হয়েছে। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ তথা জিবিপি হাসপাতালে আগে ৫৭৭টি শয্যা ছিল। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫১৩টি হয়েছে। আরও ১০০ শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে। রোগীদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের পাশাপাশি রোগীর সাহায্যকারীদের জন্য ভারতমাতা ক্যান্টিন প্রকল্পে ১০টাকায় মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্প্রতি জিবিপি হাসপাতালের গুণগত পরিষেবা আরও বাড়ানোর জন্য এইমস-এর সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন অদূর ভবিষ্যতে আমাদের রাজ্য চিকিৎসা ক্ষেত্রেও উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের সহযোগিতায় এই অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। টিবিমুক্ত ত্রিপুরা গঠনের ক্ষেত্রে নিক্ষয় পোষণ যোজনা চালু রয়েছে। রাজ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষ এই অভিযানের আওতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। তার সাথে সঙ্গতি রেখে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ত্রিপুরা গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের হাতে অ্যালবেন্ডাজোল ট্যাবলেট, আয়রন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট এবং টিডি-১০ ও টিডি-১৬ ভ্যাকসিন প্রদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা বিধানসভার সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক বিধায়ক কল্যাণী সাহা রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিতো। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অভিজিৎ চক্রবর্তী প্রমুখ। সম্প্রতি তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদ এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাঙ্কে একটি গাভী পড়ে গিয়েছিল। তেলিয়ামুড়ার একজন সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সেফটি ট্যাঙ্কে নেমে গাভীটিকে উদ্ধার করে। তাকে সহযোগিতা করেন আরও ৭ জন সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার। আজ এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ারদের তাদের সাহসিকতার জন্য সংবর্ধনা জানান।
https://brahamakundabartaa.blogspot.com/2025/10/anti-drug-raids.html


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন