মোহনপুর, ০৩ নভেম্বর : তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, মোহনপুর মহকুমা প্রশাসন ও ব্রহ্মকুন্ড মেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সিমনায় আয়োজিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী তিনদিনব্যাপী ব্রহ্মকুন্ড মেলা। প্রতিবছরের মতোই রাস পূর্ণিমা তিথি উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় স্থানীয় মানুষদের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেলার উদ্বোধন হবে আগামী ৫ নভেম্বর, যেখানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রাকেশ দেব, হেজামারা বিএসি'র চেয়ারম্যান সুনীল দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য জয়লাল দাস, ব্রহ্মকুন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কৃষ্ণা উরাং, সমাজসেবী নির্মল দেববর্মা ও ইন্দ্রজিৎ দেববর্মা।
এছাড়াও, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য, মোহনপুর আরডি ব্লকের বিডিও গোপাল কৃষ্ণ দত্ত এবং হেজামারা ব্লকের বিডিও মানস মুড়াসিং। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন টিটিএএডিসি'র কার্যনির্বাহী সদস্য (শিক্ষা) রবীন্দ্র দেববর্মা।
এই মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসঙ্গীত, ও স্থানীয় হস্তশিল্প প্রদর্শনী। ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মেলা চলাকালীন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রহ্মকুন্ড মেলা শুধু ধর্মীয় নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রতিবছর অশোকাষ্টমী এবং রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত এই মেলা জাতি জনজাতি অংশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। এবারও ব্যাপক পণ্যার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন