আগরতলা, ১৫ নভেম্বর : রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্দীপনা ও গৌরবের আবহে পালিত হলো জনজাতি গৌরব দিবস। খুমলুঙে টিটিএএডিসি-র সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা বলেন, “আমাদের জনজাতি ভাই-বোনরা ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তি। তাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার আমাদের সমাজকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে। রাজ্য সরকার জনজাতি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।”
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ১,০০০ জনজাতি ছেলে-মেয়ের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী মামিতা নৃত্য, যা খুমলুঙের খুমপুই অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। মুখ্যমন্ত্রী এটিকে “গর্বের মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করে জনজাতি সমাজের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, রাজ্যসভার সংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, পূর্ব ত্রিপুরা আসনের লোকসভার সাংসদ কৃতী শিং, মুখ্য সচিব জে কে সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক শ্রী অনুরাগ প্রমুখ।
অন্যদিকে, গোমতী জেলার অমরপুর নতুন টাউন হলে জেলার জনজাতি গৌরব দিবস পালন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়। তিনি বলেন, “জাতি-জনজাতি সহ সব অংশের মানুষের সমান উন্নতি হলেই রাজ্য ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। বর্তমান সরকার সারা রাজ্যে জনজাতি উন্নয়নে নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।”
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে দেশজুড়ে জনজাতি গৌরব দিবস পালিত হয়, যাতে স্বাধীনতা সংগ্রামে জনজাতি সম্প্রদায়ের অবদানকে সম্মান জানানো হয়। তিনি বলেন, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পরিশ্রুত পানীয়জল ও বিদ্যুৎ-ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতাই রাজ্য-দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, জিতেন্দ্র মজুমদার, রঞ্জিত দাস, সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা, অমরপুর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন বিকাশ সাহা, জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের, মহকুমা শাসক অনুপম চক্রবর্তী প্রমুখ। এদিন অতিথিরা সুবিধাভোগীদের হাতে জমির পাট্টা ও তপশীলি জনজাতি পরিচয়পত্রসহ নানা পরিষেবা তুলে দেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন