আগরতলা, ২২ জানুয়ারি : রাজ্যের বর্তমান সরকার জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব অংশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ম্যারিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংখ্যালঘু অংশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কন্যা ও শিশু উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনবিকাশ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার আলো না পৌঁছলে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে সংখ্যালঘু অংশের ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তিগত শিক্ষার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হতে হবে।
ডাঃ সাহা জানান, রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু অংশের মানুষের নানাবিধ সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট রয়েছে। এরই অঙ্গ হিসেবে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্বচ্ছতার সঙ্গে বৃত্তি প্রদান, মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে সম্প্রীতির যে পরিবেশ রয়েছে তা অক্ষুণ্ণ রেখে সরকার এগিয়ে যেতে চায়। জনগণেরও এই সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে সংখ্যালঘু অংশের মহিলারা তাঁদের বহু অধিকার ফিরে পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জানান, রাজ্যে সংখ্যালঘু আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বাজেটে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের জন্য ৯ কোটি ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন