আগরতলা, ১০ মার্চ : একজন শিক্ষিত মা যেমন তার সন্তানকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারেন তেমনি একজন আত্মনির্ভর মাও তার সন্তানকে আত্মনির্ভরতার সঠিক দিশা দেখাতে পারেন। প্রতিটি পরিবারে প্রত্যেক কন্যা সন্তানকে গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে, তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। তারা যেন সমাজে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার অর্জন করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মঙ্গলবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত রাজ্যভত্তিক আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬-এর উদ্বোধন করে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায় একথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সারা দেশের সাথে আমাদের রাজ্যেও নারীদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। আমাদের রাজ্যে মহিলা স্বসহায়ক দল এবং লাখপতি দিদির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যের নারীরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন। রাজ্যে যেন বাল্য বিবাহের মত ঘটনা না ঘটে, অকাল মাতৃত্বের জন্য কারও মৃত্যু না ঘটে তারজন্য আরও সচেতন হতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পাইলট প্রজেক্ট 'নারী আদালত'-এর সূচনা করেন। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে নারী আদালত চালু করা হবে। এছাড়া তিনি ভার্চুয়ালি আগরতলার উজান অভয়নগরস্থিত সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তর চত্বরে দিব্যাঙ্গজনদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা। তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা, পণ প্রথা বন্ধ করার কাজে সামিল হতে অভিভাবক এবং রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা বলেন, শুধু নারী দিবসেই নয়, প্রতিদিনই নারীদের অগ্রগতিতে কাজ করে যেতে হবে, তবেই আমাদের দেশ শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে রমা সরকারকে মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনায় ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা, পম্পি মজুমদার (সাহা) কে তার কন্যা শিশুর জন্য মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনায় ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য সিডিপিও সুপারভাইজার, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকাদের পুরস্কৃত করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য কৃতি নারী ব্যক্তিত্বদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরে বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন দপ্তরের অধিকর্তা এল রাখল।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন