আগরতলা, ২১ মার্চ : রাজ্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বর্হিরাজ্যে রোগী রেফারের সংখ্যা ক্রমশ কমছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। শনিবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে তিনি এই কথা বলেন।
ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ন্যাশনাল ওরাল হেলথ শাখা, ইন্ডিয়ান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের ত্রিপুরা রাজ্য শাখা, আগরতলা গভর্মেন্ট ডেন্টাল কলেজ এবং আইজিএম হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে এখন উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ-সুবিধা তৈরি হওয়ায় রোগীদের আর বাইরে যেতে হচ্ছে না। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজ্য সরকার মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি নতুন টারশিয়ারি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
মৌখিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দাঁতের পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। তিনি আরও জানান, রাজ্যের উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোর ফলে বর্তমানে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের জন্য নিয়মিত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং চর্চার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন নতুন বিষয় জানার আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজ্যকে এইডস ও নেশামুক্ত করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিতো জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মৌখিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা অঞ্জন দাস, রাজ্যের মেডিক্যাল এডুকেশনের ডিরেক্টর এইচ পি শর্মা এবং ইন্ডিয়ান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখার সভাপতি অমিত লাল গৌস্বামী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হেলথ মিশন, ত্রিপুরার যুগ্ম মিশন অধিকর্তা নূপুর দেববর্মা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা দেবশ্রী দেববর্মা।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন