Assembly News : নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়মে সমর্থনে বিধানসভায় প্রস্তাব গৃহীত, নারী ক্ষমতায়নে বড় পদক্ষেপের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Assembly News : নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়মে সমর্থনে বিধানসভায় প্রস্তাব গৃহীত, নারী ক্ষমতায়নে বড় পদক্ষেপের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

Share This

 


আগরতলা, ৩০ এপ্রিল : ত্রিপুরা বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে ‘নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম’ (১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল) সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শেষে তা গৃহীত হয়েছে। অধিবেশনে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, এই বিল দেশের নারীদের স্বশক্তিকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।


অধিবেশনের সূচনায় সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান সরকার পক্ষের আরও ১৬ জন বিধায়ক। মোট ২৫ জন বিধায়ক এই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনার শেষে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার মহিলাদের কল্যাণ, উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলি রাজনৈতিক স্বার্থে এই বিলের বিরোধিতা করছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত এই উদ্যোগের ফলে সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত আইনে এসসি ও এসটি সংরক্ষিত আসনের মধ্যেও ৩৩ শতাংশ আসন সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০১১ সালের আদমসুমারীর ভিত্তিতে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রায় ২৭৩ বা তার বেশি আসনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।


বিরোধীদের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ৩৭০ ধারা বিলোপ, তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধকরণ ও সিএএ প্রবর্তনের সময়ও বিরোধীরা একইভাবে বাধা দিয়েছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কাকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এবং বিভিন্ন রাজ্যে সম্ভাব্য আসন বৃদ্ধির উদাহরণ তুলে ধরেন।


প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, দেশে নারীরা এখন শুধু ভোটার নন, তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী টিংকু রায় জানান, ত্রিপুরা সরকার ইতিমধ্যেই চাকরির ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালু করেছে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নে কাজ করছে।


এছাড়া বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস, খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী সান্তনা চাকমা এবং সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রেখে বলেন, এই বিল নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


অন্যদিকে, প্রস্তাবের বিপক্ষে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সব রাজনৈতিক দলেরই ভূমিকা রয়েছে এবং তাদের আরও অধিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিরোধী দলের অন্যান্য বিধায়করাও প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেন।


 নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম নিয়ে ত্রিপুরা বিধানসভায় ব্যাপক আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ায় রাজ্যে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।






West Bengal Election : শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাটলো শেষ দফা ভোটগ্রহণ, ভোটের হার ৯১ শতাংশেরও বেশি


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad