আগরতলা, ২২ এপ্রিল : আগরতলা: দ্রুত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞদের দক্ষতায় জিবিপি হাসপাতালে এক ১০ মাসের শিশুকন্যার প্রাণরক্ষা সম্ভব হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে গোমতী জেলার কাঁকড়াবন এলাকার বাসিন্দা অজয় শীলের কন্যা অর্পিতা শীল।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত শিশুটির মুখের ভেতরে একটি সীসার বাল্ব প্রবেশ করে। এর ফলে হঠাৎ করে তার কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তৎক্ষণাৎ পরিবার শিশুটিকে গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে রেফার করেন।
সেদিনই বিকেল প্রায় ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ শিশুটিকে জিবিপি হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বিভাগের প্রধান নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর (ডাঃ) বিপ্লব নাথ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হন যে শিশুটির ডান শ্বাসনালীতে একটি বহিরাগত বস্তু আটকে রয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিশুটির শ্বাসনালী অত্যন্ত সরু হওয়ায় অস্ত্রোপচারটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রফেসর (ডাঃ) বিপ্লব নাথের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ব্রঙ্কোস্কোপির মাধ্যমে সফলভাবে শিশুটির শ্বাসনালী থেকে সীসার বাল্বটি বের করে আনা হয়।
এই জটিল অস্ত্রোপচারে প্রফেসর (ডাঃ) বিপ্লব নাথের সঙ্গে ছিলেন ডাঃ দেবলীনা দে, ডাঃ দীপশিখা ভট্টাচার্য, ডাঃ সুকুমার দেবনাথ, ডাঃ তন্ময় দেব ও ডাঃ বাগদত্ত পাল। অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ ভাস্কর মজুমদার, ডাঃ চিরশ্রী চৌধুরী, অর্পিতা চৌধুরী ও ডাঃ স্বপন দেববর্মা। পাশাপাশি ওটি নার্স ও টেকনিশিয়ানদের সক্রিয় সহযোগিতাও ছিল প্রশংসনীয়।
সফল অস্ত্রোপচারের পর শিশুটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং গত ২১ এপ্রিল তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। শিশুটির পরিবার এই সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ ও মানবিক সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা সম্ভব হওয়ায় এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন