Weather Alert : কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড রাজ্য, গাছ ভেঙে গুরুতর আহত মা-ছেলে - বিপর্যস্ত জনজীবন - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Weather Alert : কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড রাজ্য, গাছ ভেঙে গুরুতর আহত মা-ছেলে - বিপর্যস্ত জনজীবন

Share This


আগরতলা, ২৮ এপ্রিল :
প্রবল কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ সহ মুষলধারে বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার দাপটে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু জায়গায় উপড়ে পড়েছে বিশালাকার গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, যানবাহন এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা। এরই মধ্যে উদয়পুরের মুড়াপাড়া শাস্ত্রীজি কলোনি এলাকায় ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।


জানা গেছে, মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সময় একটি বিশাল শালগাছ ভেঙে একটি বাড়ির উপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত হন এক মা ও তাঁর ছেলে রবি দাস। স্থানীয় দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে টেপানিয়া অবস্থিত গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে রেফার করেন। আহত রবি দাসের একটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় দুই টুকরো হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, আগরতলা শহরের লেক চৌমুহনী এলাকায় এসসি কর্পোরেশন সংলগ্ন তিনমুখী রাস্তায় একটি যাত্রীবাহী অটোর উপর হঠাৎ করে বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান অটোর যাত্রীরা। শহরের আরও বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।


ঝড়ের প্রভাবে উদয়পুর-সাব্রুম জাতীয় সড়কের পেরাতিয়া এলাকায় বহু গাছ ভেঙে পড়ে ১১ কেভি বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ছিঁড়ে যায়। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ব্রহ্মাবাড়ী এলাকায় জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মুড়াপাড়ার কিছু এলাকায় বাড়ির ছাদে গাছ পড়ে কয়েকজন আটকে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। শালগড়া, রাজরবাগসহ একাধিক এলাকায় ঘরের চাল উড়ে যাওয়া এবং বড় গাছ পড়ার ঘটনা ঘটেছে।


এছাড়াও, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাতচাঁদ ব্লকের অন্তর্গত কলাছড়া ও সাতচাঁদ এলাকায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশাল গাছ ভেঙে একটি রেস্টুরেন্ট এবং দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাবার গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটিও ভেঙে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ঝড়ের জেরে রাজ্যের বহু অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছেন। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনলাইন কাজ, ব্যাংকিং পরিষেবা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বহু এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং দ্রুত পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।


যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি মেরামত, ছিঁড়ে যাওয়া তার জোড়া লাগানো এবং রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলেছে।


এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা জানিয়েছেন, প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



Government Job : ত্রিপুরা বন দপ্তরে ১০৪ জন ফরেস্টার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি, আবেদনের সময়সীমা ৩১ মে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad