আগরতলা, ৬ মে : রাজ্যের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত ব্যয় কমানোই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য—এ কথা পুনরায় স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’-এর ৬৫তম পর্বে তিনি বলেন, রাজ্যের রেফারেল হাসপাতালগুলিতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এখন রাজ্যেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সহজলভ্য হয়েছে। ফলে কিডনি প্রতিস্থাপনসহ একাধিক জটিল অপারেশনও সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রে রাজ্যের হাসপাতালগুলির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। অযথা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে রাজ্যের বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা কমানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিনের কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অসহায় ও দরিদ্র মানুষ তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মোহনপুর মহকুমার লেম্বুছড়া থেকে আগত কনিকা সরকার বিশ্বাস তার মেয়ের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চান। অন্যদিকে, নতুননগরের দশম শ্রেণির ছাত্রী নমিতা দেবনাথ তার বাবার কিডনি সংক্রান্ত গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসার আবেদন নিয়ে উপস্থিত হন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এছাড়াও কৈলাসহরের ইসকপুর থেকে রোসন সিনহা, ধলাই জেলার কুলাই থেকে পরেশচন্দ্র রিয়াৎ, মোহনপুর বড়কাঁঠাল থেকে মানসী দেববর্মা সহ আরও অনেকে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার সহায়তার আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সকলের সমস্যার কথা শুনে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহসহ দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, আগরতলার বড়দোয়ালি, ডুকলি ব্লক এবং রাণীরবাজার দেবীনগর থেকেও বেশ কয়েকজন চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার আবেদন নিয়ে আসেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যেকের কথা শুনে প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, গোর্খাবস্তির বাসিন্দা মাধবরঞ্জন দেব তার আবাসন সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানালে মুখ্যমন্ত্রী তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অর্থ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব তপন দাস, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, অটলবিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার হাসপাতাল ও জিবিপি হাসপাতালের উচ্চপদস্থ আধিকারিকসহ অন্যান্যরা।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন