আগরতলা, ১৬ মে : পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই সংস্কার অপরিহার্য—এই বার্তা দিয়েই রাজ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের ওপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। কুঞ্জবনস্থিত বিশ্বেশ্বরায় কমপ্লেক্সে পূর্ত দপ্তরের জলসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্টেট ডাটা সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই প্রকল্প রাজ্যের উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্য সরকার সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে। স্টেট ডাটা সেন্টার স্থাপনের ফলে কৃষিজমিতে জলসেচ ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, কোনও রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষি উৎপাদন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত—এই ডাটা সেন্টার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে রাজ্যের অর্থনীতিতেও।
তিনি এই প্রকল্পকে রাজ্যের জন্য “একটি মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ‘জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়’ ভাবনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গতি আনতে ত্রিস্তরীয় ই-অফিস পরিষেবা চালু করতে চলেছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী’র উদ্যোগে ২০১৬-১৭ সালে চালু হওয়া ন্যাশনাল হাইড্রোলজি প্রজেক্টের আওতায় এই স্টেট ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হবে।
জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় রাজ্যের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ১০ হাজার ৪০১ হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৯৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪টি মাইনর ইরিগেশন স্টোরেজ কাম হারভেস্টিং স্ট্রাকচার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে আরও ৬ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছবে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১৫২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪২টি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে ১৯৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আগরতলা ও গোমতী জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে পূর্ত দপ্তরের সচিব পি. কে. গোয়েল, জলসম্পদ বিভাগের মুখ্যবাস্তুকার সুধন দেববর্মা এবং সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার বি. মগ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।
Journalist Attack : রাধানগর পেট্রোল পাম্পে সাংবাদিকের উপর হামলা, তীব্র নিন্দা সাংবাদিক মহলে


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন