আগরতলা, ১১ মে : সারা দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আজ রাজ্যেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’। আগরতলা শহরের সেন্ট্রাল রোডস্থিত শিববাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শিববাড়িতে ভগবান মহাদেবের জলাভিষেক ও পূজা অর্চনা করেন। পরবর্তীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, সাহস ও ভক্তির পুনর্জাগরণের প্রতীক। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের মানুষের মধ্যে নিজ নিজ ধর্ম, ভাষা ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের উদ্যোগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১০২৬ সালে মাহমুদ গজনী সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণ চালান। পরবর্তীকালে বহুবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দির আজ ভারতীয়দের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার প্রতীক। তিনি বলেন, মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গুজরাটের ভেরাবলে আরব সাগর তীরে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রথম পীঠ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনোত্তর ভারতে এই মন্দিরের পুনর্নির্মাণে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-এর অবদান স্মরণীয়। ১৯৫১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ পুনর্নির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন করেন।
এদিন কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা সরাসরি রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কল্যাণে পূজা অর্চনা করেন এবং জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে এগোতে হলে বিজ্ঞানের সহায়তা গ্রহণ জরুরি, তবে নিজের শিকড়, ভাষা ও সংস্কৃতিকে কখনও বিস্মৃত হওয়া চলবে না। তিনি রাণী অহল্যাবাঈ সহ সোমনাথ মন্দির পুনর্গঠনে অবদান রাখা সকল পুণ্যাত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান যুব সমাজের মধ্যে ভারতীয়তাবোধকে আরও দৃঢ় করবে।
রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানের সূচনায় লক্ষ্মীনারায়ণবাড়ি পুকুর থেকে জলভর্তি ৭৫টি কলস নিয়ে মহিলাদের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শিববাড়ি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সোমনাথের ইতিহাস নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং রাজ্যের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের অন্যান্য কর্পোরেটর, রাজ্য সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
Drugs Trafficking : পি.আর. বাড়ি থানার সফল অভিযান, উদ্ধার ৩৪ কার্টুন চকলেট ও বিদেশি মদ


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন