নতুন দিল্লি, ২৯ মে : দেশজুড়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আবারও স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শিক্ষকতার ক্ষেত্রে টিচার অ্যাবিলিটি টেস্ট (টেট) পাশ করা বাধ্যতামূলক—এই নির্দেশ পুনর্ব্যক্ত করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আগে যেখানে টেট পাশের শেষ সময়সীমা ছিল ৩১ অগস্ট ২০২৭, তা বাড়িয়ে করা হল ৩১ অগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত।
শুক্রবার বিচারপতি দিপঙ্কর দত্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ একাধিক রিভিউ পিটিশনের শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং শিক্ষক সংগঠনগুলি পূর্ববর্তী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই আদালত এই অতিরিক্ত সময়সীমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, বর্তমানে বহু কর্মরত শিক্ষক এখনও টেট যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। বিভিন্ন রাজ্যে প্রশিক্ষণের অভাব, পরীক্ষা আয়োজনের বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেট সম্পূর্ণ করতে পারেননি। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষকদের আরও এক বছর সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই রায়ের ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন সেই সব শিক্ষক, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে থাকলেও টেট পাশ করতে পারেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিল এবং তাঁদের পেশাগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, এনসিটিই -এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকতা করতে গেলে টেট যোগ্যতা অর্জন করা বাধ্যতামূলক। তবে অতীতে নিয়োগপ্রাপ্ত বহু শিক্ষকের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল, যার জেরেই একাধিক রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়।
আদালতের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ৩১ অগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে টেট পাশ করতেই হবে। নির্ধারিত সময়ের পরেও কেউ এই যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলে, তাঁদের চাকরির বিষয়ে প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে আদালত জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট পাশ বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী শিক্ষকদের দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আদালত তখনই সতর্ক করেছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে না পারলে চাকরি ছাড়তে হতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকরা শুধুমাত্র অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাই পাবেন।
সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন শিক্ষার মানোন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কর্মরত শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যার প্রতিও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে শীর্ষ আদালত, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Road Accident : পরপর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, আহত একাধিক, দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে উদ্ধার চালক


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন