ধর্মনগর, ১৩ জুন : রাজ্যের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন মন্ত্রী ফয়জুর রহমান শনিবার ভোর রাতে উত্তর ত্রিপুরার লালছড়াস্থিত নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
রবিবার দুপুরে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষযাত্রায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে প্রিয় জননেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং শুভানুধ্যায়ীদের ভিড়ে শোকস্তব্ধ হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা।
শেষকৃত্যের পূর্বে প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানান একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিধায়ক যাদবলাল দেবনাথ, ইসলাম উদ্দীন, শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ, উত্তর ত্রিপুরার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কমল দেববর্মা এবং ধর্মনগর মহকুমা শাসক দেবযানী চৌধুরীসহ প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এছাড়াও প্রাক্তন মন্ত্রী বিজিতা নাথ ও অমিতাভ দত্ত উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতার প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ফয়জুর রহমান আটবার বিধানসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং চারবার রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় দুই দশক ধরে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনসেবামূলক কাজ তাঁকে রাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশেষ উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করে।
মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি তিনি ওয়াকফ বোর্ড, হজ কমিটি এবং বিভিন্ন সরকারি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন জনদরদী নেতা হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসনিক মহল এবং সাধারণ মানুষ গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাঁকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ প্রশাসক এবং মানবিক গুণসম্পন্ন নেতা হিসেবে স্মরণ করেন।
Government Initiative : রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ১৮ জনের পরিবার পেলো সরকারি চাকরি


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন