জ্যোতির্ময়ী সরকার, ১০ জুন : ত্রিপুরার গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এবং স্বনির্ভরতার পথে মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন (TRLM)-এর পশ্চিম জেলা অফিস। স্বসহায়ক দলের সদস্যাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার লক্ষ্যে সম্প্রতি গাছের বিভিন্ন প্রকার কলম সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি তিন দিনব্যাপী পরিদর্শন কর্মসূচি (Exposure Visit) আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয় নাগীছড়া এলাকার স্টেট এগ্রিকালচার রিসার্চ স্টেশনের ফ্রুটস ব্লকে। পশ্চিম জেলার পুরাতন আগরতলা, ডুকলি, বামুটিয়া, লেফুঙ্গা, হেজামারা, মোহনপুর, জিরানিয়া, মন্দাই ও বেলবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের প্রায় ১০০ জন মহিলা সদস্যা এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল ফলগাছের কলম তৈরির আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। গবেষণা কেন্দ্রের ইনচার্জ ডেপুটি ডিরেক্টর সাগরিকা ভট্টাচার্য এবং কৃষি আধিকারিক পাঞ্চাল ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণকারীদের সামনে কলম তৈরির বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। পাশাপাশি, এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, বাজার চাহিদা এবং এর মাধ্যমে কীভাবে স্বল্প বিনিয়োগে লাভজনক উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলগাছের কলম একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি প্রযুক্তি, যা দ্রুত ও উন্নত মানের চারা উৎপাদনে সহায়ক। এর মাধ্যমে কৃষক ও স্বসহায়ক গোষ্ঠীগুলি স্বল্প সময়ে অধিক ফলনশীল গাছ তৈরি করতে পারেন, যা তাদের আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
অংশগ্রহণকারী মহিলারা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতে স্বনির্ভর উদ্যোগ গড়ে তুলতে আত্মবিশ্বাস জোগায়। তবে তারা আরও জানান, যদি বিষয়ভিত্তিক নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়, তাহলে তারা আরও বেশি উপকৃত হবেন।
এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা শুধু পরিবারের আর্থিক উন্নয়নেই নয়, সামগ্রিক সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। TRLM-এর এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ত্রিপুরার গ্রামীণ উন্নয়নের পথে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন