আগরতলা, ৬ জুন : ত্রিপুরায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ। তাঁর উপস্থিতিতে আজ আগরতলার কুঞ্জবনে ঐতিহাসিক তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরার সমৃদ্ধ রাজন্য ঐতিহ্যের প্রতীক পুষ্পবন্ত প্যালেসকে ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি লিমিটেড (IHCL)-এর মাধ্যমে একটি বিশ্বমানের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে। এর ফলে রাজ্যের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি, আগরতলায় বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের সদর দপ্তরে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে “স্মার্ট বর্ডার” গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএসএফ-এর লঙ্কামুড়া বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) পরিদর্শন করেন এবং সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি করেন। দেশের নিরাপত্তায় তাঁদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন তিনি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগরতলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একটি আগর গাছ রোপণ করেন অমিত শাহ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব এবং বিএসএফ-এর মহাপরিচালকসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
নিজের বক্তব্যে অমিত শাহ জানান, ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ৭.৫ কোটিরও বেশি গাছ রোপণ করেছেন। চলতি বছরে আরও ৪০ থেকে ৬০ লক্ষ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরবর্তী বছরে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ একটি স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা সময়ের আগেই পূরণ করে বিশ্বে এক উদাহরণ স্থাপন করেছে।
এছাড়াও, বিএসএফ-এর ৩৭তম ব্যাটালিয়নে কর্মীদের জন্য আবাসন প্রকল্পের ই-উদ্বোধন এবং ৯৭তম ব্যাটালিয়নে কোয়ার্টার গার্ড কমপ্লেক্সের ই-ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সীমান্তে কর্মরত জওয়ানদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এই প্রেক্ষিতে “স্মার্ট বর্ডার” ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তি, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে সীমান্তকে আরও শক্তিশালী করা হবে। শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
ত্রিপুরার সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে অমিত শাহ জানান, প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার পুরনো সীমান্ত বেড়ার মধ্যে ১১৯ কিলোমিটার নতুন বেড়া স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত চৌকিগুলিতে বিদ্যুৎ, সবুজ শক্তি এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ত্রিপুরা তিন দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দ্বারা বেষ্টিত একটি সংবেদনশীল রাজ্য। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি সম্পূর্ণ উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে প্রথমেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চোরাচালান, মানব পাচার এবং মাদকাসক্তির মতো সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ত্রিপুরায় উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের এক সুস্পষ্ট চিত্র এই সফরে ফুটে উঠেছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন