Panchayat Minister : রাজ্যের তিনটি পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে - ব্রহ্মকুন্ড বার্তা Brahamakundabartaa

ব্রহ্মকুন্ড বার্তা  Brahamakundabartaa

দেশ-বিদেশ ও ত্রিপুরার সব খবরের আপডেট

Post Top Ad

Translate

Panchayat Minister : রাজ্যের তিনটি পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে

Share This

 


আগরতলা, ৬ জুন : রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরায় জাতীয়স্বরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ন্যাশনাল পঞ্চায়েত অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এ রাজ্যের তিনটি পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার লাভকরেছে। জাতীয়স্তরে বিভিন্ন বিভাগে এই সম্মানজনক পুরস্কার রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। আজ সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিশোর বর্মন একথা জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানান, দেশের মধ্যে বিকেন্দ্রীকরণ, সুশাসন, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে চলেছে। জাতীয় পঞ্চায়েত পুরস্কারে রাজ্যের এই সাফল্য সেই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেরই স্বীকৃতি।


সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী জানান, "বেস্ট ডিস্ট্রিক্ট পঞ্চায়েত" বিভাগে সিপাহীজলা জিলা পরিষদ জাতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একইসঙ্গে, উনকোটি জেলার কাঞ্চনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত "হেলদি পঞ্চায়েত” বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বেকুছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত "উইমেন ফ্রেন্ডলি পঞ্চায়েত” বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। তিনি আরও জানান, এই তিনটি পুরস্কারের মাধ্যমে সংলিষ্ট পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠানগুলি আর্থিক পুরস্কারও অর্জন করেছে। সিপাহীজলা জিলা পরিষদ পেয়েছে ৫ কোটি টাকা, কাঞ্চনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত পেয়েছে ১ কোটি টাকা এবং বেকুছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত পেয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকাগুলির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বছর ত্রিপুরা সাতটি জাতীয় পঞ্চায়েত পুরস্কার অর্জন করে প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কার লাভ করেছিল। এবছরও তিনটি জাতীয় পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রাজ্য পুনরায় তার সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। এছাড়াও, ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য আরও একটি গর্বের বিষয় হিসেবে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কারে "সিলভার অ্যাওয়ার্ড” অর্জন করেছে। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কার দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি, যা প্রশাসনে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দ্রুত জনপরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য প্রদান করা হয়। তিনি জানান, এই সম্মান শুধুমাত্র পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সাফল্য নয়, বরং রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক দক্ষতারও জাতীয় স্বীকৃতি।


সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত অ্যাডভান্সমেন্ট ইনডেক্স (পিএআই) ২.০ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সূচকের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, জীবিকা উন্নয়ন ও জনপরিষেবা সহ একাধিক ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতগুলির কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। জাতীয় পঞ্চায়েত পুরস্কার এখন সম্পূর্ণভাবে কর্মক্ষমতা ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের উপর নির্ভরশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী জানান, পিএআই-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে ত্রিপুরা গোটা দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত "ফ্রন্ট রানার" শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও, পিএআই-এরদ্বিতীয় পর্যায়ে স্কোরের ভিত্তিতে সিপাহীজলা জেলার যুগলকিশোর নগর ভিলেজ কমিটি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে জাতীয় পঞ্চায়েত পুরস্কারে ত্রিপুরার ধারাবাহিক সাফল্য রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কার্যকরী ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতিফলন। রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। ইতিমধ্যেই ১০৪টি পঞ্চায়েতকে স্মার্ট পঞ্চায়েত হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েতমন্ত্রী এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধণ্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও ত্রিপুরার পঞ্চায়েতগুলি উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনপরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের সামনে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাসদত্ত, কাঞ্চনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শেলী ভট্টাচার্য, হেজামারা বিএসি চেয়ারম্যান সুনীল দেববর্মা এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা অনুরাগ সেন প্রমুখ।






Union Home Minister : ত্রিপুরায় উন্নয়ন-সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে একাধিক কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad