আগরতলা, ০৯ জুন : রাজ্যের আধ্যাত্মিক জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আগরতলার নাগিছড়া আশ্রমের মহন্ত স্বামী সদানন্দ দাস কাঠিয়া বাবার মহাপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন ভক্তমহল, আশ্রম পরিবার এবং অসংখ্য অনুরাগী। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার গভীর রাত প্রায় দু’টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
প্রায় চার দশক ধরে তিনি নাগিছড়া আশ্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। দুঃস্থদের সাহায্য, কন্যাদান, শিক্ষার প্রসারসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন এক নিবেদিত প্রাণ সাধক এবং মানবতার সেবায় আত্মনিয়োজিত এক আলোকবর্তিকা।
মঙ্গলবার বিকাল প্রায় তিনটা নাগাদ তাঁর নশ্বর দেহ নাগিছড়া আশ্রমে নিয়ে আসা হলে সেখানে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভক্তদের ঢল নামে আশ্রম প্রাঙ্গণে। সকলের চোখে জল, হৃদয়ে বেদনা—প্রিয় গুরুদেবকে শেষবারের মতো দেখার জন্য ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।
এদিকে, তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আগরতলা নাগিছড়াস্থিত কাঠিয়া বাবা আশ্রমের মহন্ত, পরম শ্রদ্ধেয় স্বামী সদানন্দ দাস জীর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে তাঁর সকল শিষ্য, ভক্ত ও গুণমুগ্ধদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা বিস্তার, আধ্যাত্মিক চেতনার জাগরণ এবং সমাজকল্যাণে স্বামীজির নিঃস্বার্থ সেবাভাব চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরম করুণাময়ের চরণে প্রার্থনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বামী সদানন্দ দাস জীর পবিত্র আত্মা যেন চিরশান্তি লাভ করেন এবং তাঁর পরিবার ও ভক্তদের এই শোক সহ্য করার শক্তি প্রদান করা হয়।
Drugs Trafficking : জোড়া অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, তদন্তে নেমেছে পুলিশ


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন