আগরতলা, ২১ আগস্ট : ত্রিপুরার প্রায় ১০ লক্ষাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহকের জন্য বড় স্বস্তির ঘোষণা করলেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (TERC) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের নতুন ট্যারিফ অর্ডারের ফলে বিদ্যুৎ বিলে যে অতিরিক্ত মাশুলের বোঝা পড়েছে, তার ১০০ শতাংশই রাজ্য সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২০২৬ সালের মে মাস থেকে, ফলে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা গ্রাহকদের অর্থ আগামী সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বিলে ধাপে ধাপে সমন্বয় করে ফেরত দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, বরং মানুষের কষ্ট লাঘবের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, অভিযোগ এবং যন্ত্রণা সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার নেতৃত্বে একাধিক বৈঠক ও পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করে না TSECL বা রাজ্য সরকার। বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩-এর ধারা ৬১ ও ৬২ অনুযায়ী, এই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন ও আধা-বিচারবিভাগীয় সংস্থা ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (TERC) হাতে ন্যস্ত। TSECL কেবল ব্যয়ের হিসাব দিয়ে পিটিশন দাখিল করে, এরপর জনশুনানি ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কমিশন ট্যারিফ অর্ডার জারি করে।
তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঞ্চিত রাজস্ব-ঘাটতি পূরণ করতে এবং প্রকৃত ব্যয়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে ট্যারিফ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন ট্যারিফ অর্ডার জারি হয়েছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী দাবি করেন, বামফ্রন্ট সরকারের শেষ আট বছরে (২০১০-১১ থেকে ২০১৭-১৮) মোট বিদ্যুৎ ট্যারিফ বৃদ্ধি হয়েছিল ১১৬.০৩ শতাংশ, যেখানে বিজেপি সরকারের আট বছরে (২০১৮ থেকে ২০২৬-২৭) মোট বৃদ্ধি হয়েছে ৪০.৪২ শতাংশ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০-২১ সালে ট্যারিফ না বাড়িয়ে বরং ২.৩৪ শতাংশ রিবেট দেওয়া হয়েছিল, যা রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবার ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, ২০১০-১১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের ক্রয়মূল্য ১৭৯ শতাংশ বাড়ায় তৎকালীন সরকার ৬২ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধি করেছিল। অন্যদিকে, ২০২২-২৩ সালে গ্যাসের মূল্য ১৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও সরকার তখন ট্যারিফ বাড়ায়নি।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গৃহস্থালি, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী, কৃষক এবং শিল্পক্ষেত্র—প্রায় সব শ্রেণির বিদ্যুৎ গ্রাহকই এই ১০০ শতাংশ ভর্তুকির আওতায় আসবেন। তবে রেলওয়ে ট্র্যাকশন এই সুবিধার বাইরে থাকবে। ডিফেন্স স্থাপনা, রেলওয়ে, অল ইন্ডিয়া রেডিও, দূরদর্শনসহ কয়েকটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভর্তুকি প্রযোজ্য হবে। মন্ত্রী বলেন, “সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে আপনার বিলে যে অতিরিক্ত অর্থ যোগ হয়েছিল, সেটি আর আপনাকে বহন করতে হবে না। সেই অর্থ সরকার নিজেই দেবে।”
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে বিদ্যমান ৭৭ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার ভর্তুকির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১১৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হবে। বিদ্যুৎমন্ত্রীর দাবি, ত্রিপুরার ইতিহাসে এই প্রথমবার সরকার বিদ্যুৎ ট্যারিফ বৃদ্ধির সম্পূর্ণ বোঝা নিজ দায়িত্বে বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Cabinet Disition : জে.আর.বি.টি ও পুলিশে বিশাল নিয়োগ, উচ্চশিক্ষায় ২০০ সহকারী অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন