নতুন দিল্লি, ১১ জুন : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে NITI Aayog-এর ১১তম গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘Viksit Bharat@2047-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’ ছিল এবারের মূল প্রতিপাদ্য। বৈঠকে ২৮টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী, লেফটেন্যান্ট গভর্নর ও প্রশাসকরা অংশগ্রহণ করেন—প্রথমবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারতের উন্নয়ন বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। আত্মনির্ভরতা জোরদার করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বমানের সেরা পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই লক্ষ্যকে গ্রাম থেকে জেলা পর্যন্ত সর্বস্তরের সম্মিলিত সংকল্পে পরিণত করতে হবে।
দেশের যুবশক্তিকে সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২৫ বছরের নিচে প্রায় ৭০ কোটি তরুণ-তরুণী ভারতের জনসংখ্যায় রয়েছে। শিক্ষাদীক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-কে উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানান তিনি।
বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজ্যগুলিকে MSME ও যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে ‘লখপতি দিদি’ সংখ্যা ৩ কোটির থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ এবং নারীর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ODOP)’ উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর মতো উদীয়মান ক্ষেত্রেও রাজ্যগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাদকাসক্তি ও সাইবার প্রতারণা রোধে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন।
এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জল সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা স্তরে উন্নয়ন মূল্যায়ন এবং কৃষিক্ষেত্রে ১০০টি আকাঙ্ক্ষিত জেলা চিহ্নিত করার প্রস্তাব দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর ১২ বছরের শাসনকাল পূর্তিতে তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এই বৈঠক সম্পর্কে নিজের সামাজিক মাধ্যমে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা জানান, ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন’ ভিত্তিক এই বৈঠকে ত্রিপুরার সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্টার্টআপ ক্ষেত্রে অগ্রগতির মাধ্যমে ‘বিকশিত ত্রিপুরা’ গঠনের পথে রাজ্য এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং রাজ্যগুলির অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। সম্মিলিত উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও উন্নয়নের অঙ্গীকারের মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত একটি বিকশিত দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Women Empowerment : ত্রিপুরায় স্বনির্ভরতার পথে নারীরা, গাছের কলম প্রযুক্তির প্রশিক্ষণে দারুন উৎসাহ


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন