উদয়পুর, ১৩ অক্টোবর : আয়ুর্বেদের সমৃদ্ধ জ্ঞান ও ঐতিহ্য যাতে আগামী প্রজন্মের কল্যাণে কাজে লাগে তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধুমাত্র প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্রে নয়, আধুনিক যুগের চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও আয়ুর্বেদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজ উদয়পুরের চন্দ্রপুর এলাকায় দ্বিতল বিশিষ্ট ৬০ আসনের সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ ও হাসপাতালের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের প্রাচীন চিকিৎসার ধারা যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য আয়ুষ মন্ত্রক বিশেষভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বহু পুরোনো জটিল রোগও আয়ুর্বেদের মাধ্যমে ভালো করা যায়। আয়ুর্বেদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও প্রায় নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অপর নাম হলো আয়ুর্বেদ।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালের উদ্বোধন ত্রিপুরার চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই প্রতিষ্ঠানটি একদিকে যেমন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পরিষেবার পরিধি বাড়াবে তেমনি আয়ুর্বেদের শিক্ষা গ্রহণ ও পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচিত করবে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার আমাদের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি আয়ুর্বেদের সংরক্ষণ, প্রসার ও আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যক্ষেত্রকে অন্যতম অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে কাজ করে চলেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপোষ করা হবে না।বর্তমান রাজ্য সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একাধিক জটিল রোগের চিকিৎসা এখন রাজ্যেই সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য রাজ্যবাসীকে যেন বাইরে ছুটতে না হয় সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করছে। ফলশ্রুতিতে রোগীদের বহিরাজ্যে রেফারের সংখ্যাও অনেক হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যে যেমন মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি এগুলিতে রাজ্যের জন্য আসনও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মেডিক্যাল পড়ার জন্য রাজ্যের ছেলেমেয়েদের যেভাবে বহিরাজ্যে ছুটতে হতো এই চিত্রও এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র অ্যালোপ্যাথ নয়, হোমিওপ্যাথ এবং আয়ুর্বেদের চিকিৎসার সুবিধা যাতে রাজ্যের জনগণ পেতে পারেন সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এর অঙ্গ হিসেবেই হোমিওপ্যাথ এবং আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় বলেন, এলাকাবাসীর সবাইকে এই কলেজকে রক্ষা করতে হবে। এখান থেকে পাশ করে ছাত্রছাত্রীরা চিকিৎসা জগতে প্রবেশ করলে এর সুফল ভোগ করবেন রাজ্যবাসীই। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা বা স্বাস্থ্যই নয় সমস্ত ক্ষেত্রের উন্নয়নেই রাজ্য সরকার সচেষ্ট। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার যেখানে আছে সেখানেই উন্নয়ন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথের, ত্রিপুরা আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল দিলীপ কুমার গোস্বামী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ই-গার্ভেজের ৪০টি গাড়ির চাবি মাতাবাড়ি ব্লকের বিডিও-র হাতে তুলে দেন।
Foundation Stone Laying : কুমারঘাটে ২১টি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসে মুখ্যমন্ত্রী


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন