আগরতলা, ১৯ অক্টোবর : শারদীয়া দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীর পুণ্যলগ্নে মাতৃ আরাধনায় মেতে উঠেছে গোটা ত্রিপুরা। সোমবার রাজ্যের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় মহাষ্টমী। এই উপলক্ষে ধলেশ্বরের রামকৃষ্ণ মিশন এবং মধুবন রানীখামারের রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রমে ঐতিহ্য মেনে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র কুমারী পূজা। অন্যদিকে, আগরতলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাবাড়িতে দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে রাজ্যবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা এবং রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
ধলেশ্বরস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনে মহাষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল কুমারী পূজা। এদিন কুমারী রূপে পূজিত হয় ছয় বছর ২৮ দিনের বেদান্তিকা চক্রবর্তী। তার বাবা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী এবং মা বর্ণিতা ভট্টাচার্য। তাঁদের বাড়ি আগরতলার কলেজটিলা এলাকায়। ধর্মীয় রীতিনীতি ও নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই বিশেষ পূজা। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃশক্তিকে উপলব্ধি করে তাঁর আরাধনা করা হয়। নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও মাতৃভাবনার প্রকাশ হিসেবেও এই পূজার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
একইভাবে মধুবন রানীখামারস্থিত রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রমেও মহাষ্টমী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। সেখানে উদয়পুরের সুদীপ চক্রবর্তীর কন্যা সমরজিতা চক্রবর্তীকে কুমারী মায়ের রূপে পূজা করা হয়। আশ্রমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় দেবীর এই বিশেষ আরাধনা। দুই আশ্রমেই কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে ছিল গভীর ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহ।
অন্যদিকে, মহাষ্টমীর পুণ্যলগ্নে আগরতলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাবাড়িতে উপস্থিত হয়ে দেবী দুর্গার পূজায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা। তিনি দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে রাজ্যবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে সকলের জীবন আনন্দময় হয়ে উঠুক এবং রাজ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হোক—এই প্রার্থনা জানান তিনি।
এদিন দুর্গাবাড়িতে দেবী দুর্গার পূজায় অংশ নিয়ে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার।
মহাষ্টমীর পবিত্র দিনে কুমারী পূজা, পুষ্পাঞ্জলি ও মাতৃ আরাধনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সর্বজনীন মঙ্গলকামনার মধ্য দিয়ে শারদোৎসবের এই বিশেষ দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। দেবী দুর্গার আরাধনায় ভক্তদের প্রার্থনা—অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন