আগরতলা , ১৬ আগস্ট : রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে । এক্ষেত্রে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরকে কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে । পাশাপাশি রাজ্যের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যে উৎপাদিত সামগ্রী রপ্তানির উপরও গুরুত্ব দিতে হবে । মঙ্গলবার সচিবালয়ের ২ নং সভাকক্ষে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা একথা বলেন । পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করা হয় । শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী ডা . সাহা বলেন , রাজ্যকে একটি অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে । এজন্য রাজ্যে শিল্পের উন্নয়নের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে । শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে । রোজগারের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যের উৎপাদিত পণ্য দেশ বিদেশে রপ্তানির উপরও গুরুত্ব দিতে হবে দপ্তরকে ।
পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব অভিষেক চন্দ্রা জানান , দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে সুসংহত পরিকাঠামোর উন্নয়নে গত ১৩ অক্টোবর , ২০২১ তারিখে প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যানের সূচনা করা হয় । বিভিন্ন রাজ্যের পরিকাঠামো ও যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রকল্পের সম্পাদন ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদারকি করা হয়ে থাকে । এজন্য বিভিন্ন রাজ্যের পরিকাঠামোগত যোগাযোগ বিষয়ক প্রকল্পগুলি বিআইএসএজি - এন পোর্টালে আপলোড করা প্রয়োজন । প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তর নোডাল দপ্তর হিসেবে কাজ করবে । শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব জানান , প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তিতে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৮ টি প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করে পাঠিয়েছে দপ্তর । এরমধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৪ টি প্রকল্পের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।
পর্যালোচনা সভায় শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের গত ৪ বছরের সাফল্য তুলে ধরে সচিব জানান , রাজ্যে শিল্প স্থাপনের পদ্ধতিকে সহজ করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে অনলাইন সিঙ্গেল উইন্ডো স্বাগত পোর্টালের সূচনা করা ২০২১ সালের ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল । কাঞ্চনপুর , গন্ডাছড়া ও শান্তিরবাজারে ৩ টি নতুন শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ( আইটিআই ) উদ্বোধন করা হয় । বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফেণী নদীর উপর মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে । চলতি বছরে ত্রিপুরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ইনসেনটিভ স্কিম চালু করা হয়েছে । সচিব জানান , গত ৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রামে ৩,৯২৬ জনকে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ২৫১ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে । এছাড়াও স্বাবলম্বন প্রকল্পে গত ৪ বছরে ৮,৩০৩ জনকে ২২৯ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে । তিনি জানান , গত ৪ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে । ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে যেখানে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা তা ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়ায় ১,০০৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা । বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য প্রধানত রাজ্যের ৮ টি ল্যান্ডকাস্টম স্টেশন , ১ টি ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের মাধ্যমে হয়ে থাকে । এছাড়াও শ্রীনগর ও কমলাসাগরে ২ টি বর্ডার হাটের মাধ্যমেও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে ।
পর্যালোচনা সভায় ত্রিপুরা ব্যাম্বু মিশন , রাবার প্রসেসিং , চা শিল্প , খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ , প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব বিস্তারিত আলোচনা করেন । সভায় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা , মুখ্যসচিব জে কে সিনহা , শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা স্বপ্না দেবনাথ , অতিরিক্ত অধিকর্তা কাইজার দেববর্মা এবং দপ্তরের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন ।
76th Independence Day : আসাম রাইফেলস ময়দানে ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন