আগরতলা, ১৭ আগস্ট : পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রহস্য জনক ভাবে চুরি যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথি সহ ১৬৫ টি ফাইল উদ্ধার করলো পুলিশ। এই চুরির সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে জালে তুলে পুলিশ । এই চুরি কান্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কাছে চিঠি লিখলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার ।
উল্লেখ্য, খোদ রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে হানা দিয়ে চোরের দল ১৬৫ টি গুরুত্বপূর্ণ নথি সহ ফাইল নিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যায় স্বাধীনতা দিবসের গভীর রাতে। ১৬ আগস্ট বিষয় টি টের পেয়ে ফাইলের দায়িত্বে থাকা ডি এস পি শংকরলাল পুরোকায়স্ত সাথে সাথে পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিম থানার ও সি সুব্রত চক্রবর্তী এবং বটতলা ফাঁড়ির ও সি অভিজিৎ মন্ডল চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই দুই চোর সহ চুরি যাওয়া ফাইলগুলি উদ্ধার করে পুলিশের মান বাঁচালেন। চুরি যাওয়া ফাইল গুলি বটতলা হাওড়া মার্কেটের ব্যবসায়ী জৈনক সুমন দে'র বাইপাসস্থিত গোডাউন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মঙ্গলবার গভীর রাতে। ধৃত দুই অভিযুক্ত হলো বিজয় ঋষি দাস (কালু) বাড়ি বিলোনিয়া কালিনগর, এবং তাপস আচার্য বাড়ি ভট্টপুকুর। এছাড়াও পুলিশ অমিত দে এবং সুব্রত সূত্রধর নামে বটতলা হাওড়া মার্কেটের দুই ব্যবসায়ীকেও আটক করেছে। তারা এই গুলি ক্রয় করেছিলো বলে অভিযোগ।
এদিকে রহস্যজনক এই চুরি কান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, '১৭ ই আগস্ট আগরতলা থেকে প্রকাশিত ত্রিপুরার একাধিক প্রভাতী দৈনিক সংবাদপত্রে পরিবেশিত সংবাদ থেকে জানা গেল যে আগরতলায় অবস্থিত ত্রিপুরা পুলিশের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৫ আগস্ট বহু গুরত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব হয়ে গেছে । এই ঘটনা অভাবনীয় । একে একটি সাধারণ চুরির ঘটনা বলে মনে করার কারণ নেই । এই ফাইল সমূহ সরিয়ে নেয়ার পেছনে সরকার তথা প্রশাসনের কোনও না কোন অংশের স্বার্থ যুক্ত রয়েছে বলে মনে করার সঙ্গত কারণ আছে । এই ফাইল সরিয়ে নেয়া বা গায়েব করার পিছনে গভীর রহস্য ও ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করলে ভুল কিছু হচ্ছে বলে মনে করার কারণ নেই ।'
মানিকসরকার আরও লিখেন, 'এই বিস্ময়কর উদ্বেগজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর থেকে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে তা জনমনে সন্দেহকে আরও গভীর করেছে । আপনি মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে । তাই সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তথ্যে যদি ভুল না থাকে তাহলে ত্রিপুরা পুলিশের ইতিহাসে এই প্রথম ঘটে যাওয়া এরকম শিহরিত হবার মতো বিষয়ের যথাযথ কিনারা করতে আপনি নিশ্চয়ই দ্রুততার সাথে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে বিশ্বাস । এরজন্য সাধারণ প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের উচ্চতর পর্যায়ের নির্ভীক একাধিক অফিসারকে অবিলম্বে দায়িত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি । ত্রিপুরাবাসী অপেক্ষায় থাকবেন আপনার ভূমিকা ও পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় দেখার জন্যে ।'
CM Attends in Review Meeting : সচিবালয়ে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন