আগরতলা, ১৮ আগস্ট : আগরতলার শিশুবিহার স্কুলের প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী অস্মিতা দত্ত স্কুল থেকে ফেরার পথে রাস্তায় যান দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে জিবিপি হাসপাতালের নিউরো বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে এখন সম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। অত্যন্ত চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলেন সনামধন্য নিউরো সার্জন ডাঃ সিদ্দা রেড্ডি অঙ্কিরেড্ডিপল্লী সহ সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ, ফিজিওথেরাপিস্ট, শিশু বিভাগ, অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগ এবং রেডিওলজি বিভাগের কর্মীরা। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা শিশুটির চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত সকল কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। নিজের সামাজিক মাধ্যমে শিশুটির সুস্থতার খবর জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেন, "আমি আশা করি পুরনো উদ্দীপনায় আবারও স্কুলে যাবে ছোট্ট অস্মিতা । তার ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল হোক, ঈশ্বরের কাছে এই কামনা করি।"
এর আগে শিশু অনুস্মিতা দত্তের সুস্থতার খবরটি নিজের সামাজিক মাধ্যমে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরেন প্রখ্যাত নিউরোসার্জন ডাঃ সিদ্দা রেড্ডি অঙ্কিরেড্ডিপল্লী। তিনি লিখেন, "শিশু অনুস্মিতা দত্ত ৫ দিন ভেন্টিলেটরে জীবনের জন্য লড়াই করার পরে তার আঘাতজনিত মস্তিষ্কের আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছে এবং নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে পুনর্বাসনের অধীনে স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে । যদিও এই ছোট্ট শিশুটির চিকিৎসা করা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। আমাদের ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ, ফিজিওথেরাপিস্ট, শিশু বিভাগ, অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগ, রেডিওলজি আমাদের সর্বোত্তম চিকিত্সার পরিকল্পনা করতে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করেছিল।"
ডাঃ রেড্ডি আরও লিখেন, "যখন শিশুটিকে কোমায় ভর্তি করা হয়েছিল কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা ছিল। আমার এখনও মনে আছে রোগীর বাবা আমার কাছে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উচ্চতর কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ চেয়েছিলেন, যার জন্য আমরা তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলাম যে চিকিৎসকদের সুবিধা এবং প্রশিক্ষিত দল রয়েছে AGMC এবং GBP হাসপাতালে এবং মৃদুভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে৷ এটি আমাকে এবং আমার দলকে শিশুর যত্নের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলেছে৷"
শিশুটির চিকিৎসার ব্যাপারে রাজ্যবাসী ত্রিপুরার চিকিৎসক দলের উপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডাক্তার রেড্ডি লিখেন, "আমরা স্বীকার করি যে শুধুমাত্র আমাদের চিকিৎসা ও যত্নের জন্যই নয়, ত্রিপুরার সকল মানুষের প্রার্থনার মাধ্যমেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা একটি অলৌকিক ঘটনা ছিল । আশা করি সে খুব শীঘ্রই তার বন্ধুদের সাথে যোগদান করবে এবং পড়াশোনা করবে এবং স্বাভাবিকভাবে খেলাধূলা করবে তার বন্ধুদের সাথে।" গুরুতর ভাবে আহত হয়ে কোমায় চলে যাওয়া শিশুটিকে যেভাবে সুস্থ করে তুলেছেন জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসকরা, তাতে আগামী দিনের জন্য আশার আলো দেখছেন রাজ্যবাসী।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন