আগরতলা , ০৩ আগস্ট : চিকিৎসকদের পেশা একটা মহৎ পেশা । চিকিৎসকদের প্রতি জনগণের একটা সম্মানবোধ থাকতে হবে । অনেক সময় হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীদের পরিবারের মধ্যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায় । যা কোনভাবেই কাম্য নয় । চিকিৎসক এবং রোগীদের সম্পর্ক আরও মধুর হতে হবে । কারণ জন্ম বা মৃত্যু উভয় ক্ষেত্রেই শংসাপত্র দিয়ে থাকেন চিকিৎসকগণ । বুধবার কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নবনির্মিত ভবন এবং স্টাফ কোয়ার্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ।
এদিন সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন ও স্টাফ কোয়ার্টার উদ্বোধন উপলক্ষে কল্যাণপুর বাজারে সোনারতরী মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন , রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক । শুধু ঘটা করে হাসপাতালের উদ্বোধন করলেই হবে না । সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাসপাতালের পারিপার্শিক পরিমন্ডলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । তিনি বলেন , হাসপাতাল একটা মন্দিরের মতো । কারণ মানুষের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে হাসপতালে গিয়েই নিরাময় করতে হয় । তাই হাসপাতালকে মন্দিরের মতোই পবিত্র রাখতে হবে । পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপর আস্থা রাখতে হবে রোগী এবং তাদের পরিজনদের । বিশ্বাস রাখতে হবে তাদের পরিষেবার উপর ৷ এক্ষেত্রে চিকিৎসক এবং রোগীদের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । একইভাবে রোগীদের পরিষেবার জন্য চিকিৎসকদেরও নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব উজার করে দিতে হবে ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন , কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে খুবই আন্তরিক । কারণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । স্বাস্থ্য ঠিক থাকলেই মানুষের সবকিছু ঠিক থাকে । মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন সকলের মিলিত প্রচেষ্টাতেই আমরা এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলা সম্ভব হবে । অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরও বলেন , রাজ্যে নেশা বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে সরকার । নেশা বিরোধী অভিযানে অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে । নেশা থেকে ছেলেমেয়েদের বিরত রাখতে অভিভাবকদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান রাখেন তিনি ।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন , দেশের সার্বিক বিকাশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐকান্তিক ভূমিকা নিয়েছেন । এদিকে রাজ্য সরকারও হাসপাতালগুলির পরিষেবার মান আরও উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । মুখ্যমন্ত্রী জানান , রাজ্যে বর্তমানে দুটি মেডিকেল কলেজ , স্টেট হাসপাতাল ৬ টা ( অ্যালোপ্যাথি ৪ টি , হোমিও ১ টি ও আয়ুর্বেদিক ১ টি ) রয়েছে । তিনি জানান , রাজ্যে একটি ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ডা . রাধা দেববর্মা বলেন , কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নবনির্মিত ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা । এই সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩০ টি শয্যা রয়েছে । তাছাড়া স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা ।
কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতক বিধায়ক কল্যাণী রায় , বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী , স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব ডঃ দেবাশিষ বসু , খোয়াই জেলার জেলাশাসক এল টি ডার্লং , খোয়াই জিলা পরিষদের জিলা সভাধিপতি জয়দেব দেববর্মা , কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সৌমেন গোপ , সমাজসেবী জীবন দেবনাথ প্রমুখ ।
অনুষ্ঠানে ১০০ শতাংশ কোভিড ভ্যাকসিনেশন সম্পন্ন করার জন্য গয়াংফাঙ হাইস্কুল , ঘিলাতলি বাজার হাইস্কুল , রথিয়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়কে সংবর্ধনা জানানো হয় । বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী ডা . মানিক সাহা । তাছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য জমিদাতা প্রয়াত যোগেশ ভট্ট চার্যের ছেলে জগদীশ ভট্টাচার্যকেও সম্মানিত করেন । আয়ুষ্মান কার্ডে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পাওয়া ২ ব্যক্তিকে অনুষ্ঠানে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় । অনুষ্ঠানে কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের জন্য ৫ হাজার টাকার একটি চেক মুখ্যমন্ত্রীর ডাঃ সাহার হাতে তুলে দেওয়া হয় ।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন