আগরতলা, ২৩ আগস্ট : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্বে সক্রিয় হও (অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি) নীতিতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সামগ্রিক বিকাশেই জোর দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মঙ্গলবার আগরতলার রাজ্য অতিথিশালায় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী সোম প্রকাশ উত্তর পূর্বাঞ্চল শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প (এনই-আইডিএস) ও রাজ্যের চা শিল্প নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন। সভার প্রথম পর্যায়ে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব অভিষেক চন্দ্রা এনই-আইডিএস প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী সোম প্রকাশ ত্রিপুরায় শিল্প স্থাপনে যে সকল সমস্যাগুলি রয়েছে তার দ্রুত নিরসন করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, এনই-আইডিএস প্রকল্পটি ১ এপ্রিল, ২০১৭ সাল থেকে ৫ বছরের জন্য উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে শিল্প স্থাপনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পে উত্তর পূর্বাঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় সহ বিভিন্নন্ন ধরনের অনেক সুবিধা রাখা হয়েছিল। সভায় আলোচনা করতে গিয়ে সচিব অভিষেক চন্দ্ৰা রাজ্যের পর্যটন বিকাশে ও রপ্তানি বাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সরলীকরণ, উন্নীতকরণ করার উপর জোর দেন। এছাড়াও সভায় রাবার, ধূপকাঠি, আগর প্রভৃতি শিল্প নিয়েও আলোচনা করা হয়। এই সভায় রাজ্য ও জাতীয়স্তরের বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
পর্যালোচনা সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজ্যের চা শিল্প নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়। সভায় চা বিক্রির জন্য রাজ্যেই একটি নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের উপর জোর দেওয়া হয়। এরফলে ত্রিপুরা সহ মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম প্রভৃতি রাজ্যের ক্ষুদ্র চা চাষীরাও উপকৃত হবেন। সভায় টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার আধিকারিক অরুণিমা ফুকন যাদব জানান, এই সম্পর্কিত একটি বৈঠক সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে করার সম্ভাবনা রয়েছে। এইক্ষেত্রে সচিব অভিষেক চন্দ্রা এই নিলাম কেন্দ্র স্থাপনে সকল ধরনের সহায়তা রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া হবে বলে জানান। তাছাড়াও এমজিএন রেগার মাধ্যমে চা বাগান তৈরির বিষয়টি পুনরায় যুক্ত করা যায় কিনা সেদিকেও বিচার বিবেচনা করার জন্য সভায় আলোচনা করা হয়। এরফলে ক্ষুদ্র চা চাষীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এছাড়াও চা চাষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সার, ওষুধ, প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের চা বাংলাদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হলে এখানকার চা শিল্প অনেকটাই লাভবান হবে। সেদিক দিয়ে লক্ষ্য রেখে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথভাবে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সভায় অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভায় ত্রিপুরা চা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা সহ চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। উভয় সভাতে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা স্বপ্না দেবনাথ, অতিরিক্ত অধিকর্তা সুভাষ দাস সহ দপ্তরের অন্যান্য স্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, চা উৎপাদনে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৮ হাজার ৩০২ হেক্টর ভূমিতে চা বাগান রয়েছে। এরমধ্যে ২,৮৬৫ জন ক্ষুদ্র চা চাষীর ১,৪০৮ হেক্টর জমিতে চা বাগান আছে। রাজ্যে ২০২১ সালে ৮.৮১ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। রাজ্যের ৫২টি চা বাগানে মোট ১০,৪৩৮ জন চা শ্রমিক নিযুক্ত রয়েছেন।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন