আগরতলা, ১৯ নভেম্বর : ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রিসভা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বুধবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাদ্য, জনসংযোগ ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, রাজ্যে আরও দুইটি নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (TIT)–কে উন্নীত করে ‘ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি’ করা হবে। পাশাপাশি, আগরতলার মহিলা মহাবিদ্যালয়কে ‘ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ওমেন ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
এদিন মন্ত্রিসভা রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমবায় দপ্তরে ৯৭টি গ্রুপ–সি পদে নিয়োগ করা হবে। সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরে ২৮ জন আইসিডিএস সুপারভাইজার নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগর উন্নয়ন দপ্তরের বিভিন্ন শাখায় মোট ১৪ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা হবে। ত্রিপুরা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (TFTI)-এর জন্য চুক্তিভিত্তিক ৮ জন ফ্যাকাল্টি এবং সহায়ক কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
মন্ত্রিসভার আরও একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হল রাজ্যের প্রান্তিক এলাকায় ১১৯টি নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থাপন। নতুন এই কেন্দ্রগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১১৯ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সমান সংখ্যক হেল্পার নিয়োগ করা হবে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপে শিশু পুষ্টি, প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও উন্নতি সাধিত হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্ত ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার মানুষের স্বার্থে দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন