কমলপুর, ১৩ নভেম্বর : রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন ও মানুষের জীবিকা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ত্রিপুরা সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের স্বপ্নকে সামনে রেখে ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরাও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আজ ধলাই জেলার কমলপুরে হরচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও জেলার ২২টি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সর্বত্র উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় ধলাই জেলাতেও বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানীয়জল, সেতু ও বাজার অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে জি.এস.ডি.পি. এবং মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
ডাঃ সাহা জানান, প্রশাসনিক কাজের গতি আনতে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত থেকে ক্যাবিনেট পর্যন্ত ই-অফিস ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাজ আরও সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি ‘আমার সরকার’ পোর্টালও জনগণের সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। কৃষকদের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ও কৃষাণ সম্মাননিধি প্রকল্পের আওতায় কোটি কোটি টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের লক্ষ্য এক লক্ষেরও বেশি “লাখপতি দিদি” গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, ধলাই জেলায় একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজে শয্যা ও শিক্ষার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় উচ্চশিক্ষার জন্য রাজ্যের শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে হতো, এখন রাজ্যেই উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করায় জটিল রোগের চিকিৎসা এখন রাজ্যেই সম্ভব হচ্ছে এবং শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
নেশামুক্ত সমাজ গঠনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে এবং প্রত্যেক জেলায় নেশামুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৪টি নতুন বিদ্যালয় ও ৮০ কোটি টাকায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব, জেলা শাসক বিবেক এইচ. বি., সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল প্রমুখ। হরচন্দ্র বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ১৪ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা এবং উদ্বোধিত ২২টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০২ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন