আগরতলা, ২৯ নভেম্বর : দক্ষিণ ত্রিপুরার গঙ্গানগর থানার পুলিশ শনিবার এক বিশেষ ঝটিকা অভিযানে যেন পুরো এলাকাকে চমকে দিল। এসডিপিও আমবাসার নেতৃত্বে পূর্ণজয় পাড়ায় পরিচালিত এই অভিযান দু’টি যানবাহন থামিয়ে তার ভেতর থেকে উদ্ধার করে প্রায় ৫৪৭ কেজি শুকনো গাঁজা, সন্দেহ করা হচ্ছে এগুলো চোরাচালানের উদ্দেশ্যেই পাচার করা হচ্ছিল। ধরা পড়েছে তিনজন; পুলিশের জালে আটকে এখন তারা এনডিপিএস আইনের কঠোর ধারার মুখোমুখি। গঙ্গানগর থানায় মামলার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
এদিকে, আরেকটি নেশা বিরোধী অভিযান চালালো বিশালগড় থানার পুলিশ। গজারিয়া, চেলিখালা ও পুরানবাড়ির রামছড়া এলাকাজুড়ে গাঁজা চাষ দমনে এক বিস্তৃত অপারেশন পরিচালনা করে ধ্বংস করা হয়েছে প্রচুর সংখ্যক গাঁজা গাছ। স্থানীয়দের গুঞ্জন—এলাকার আরও কিছু গোপন বাগান এখনও সক্রিয়। তার মাঝেই পুটিয়া সীমান্তে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ভস্মীভূত করা হয়েছে প্রায় ২,০০০ গাঁজা প্লান্ট।
অন্যদিকে, একেবারে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আরেক দুঃসাহসী উদ্যোগ ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের। তুলামুরা তাইদুম এলাকায় গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে একাধিক বাড়িতে অভিযান চালায় বন দপ্তরের টিম। নেতৃত্বে ছিলেন তুলামুরা বিট অফিসার বাপি লোদ, সঙ্গে বাগমা বিট অফিসার কিসুর দেববর্মা ও গার্জি এফপিও–র স্টাফরা। অভিযানের থলে ভরে ওঠে ৩৫ ফুট চোরা কাঠে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৫–৪০ হাজার টাকা। বনদস্যুদের অবৈধ হাত থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁচাতে এই হানা এলাকার বাসিন্দাদের আস্থাও অনেকটাই বাড়িয়েছে।
একদিনে তিন-তিনটি অভিযানে পুলিশ ও বন দপ্তরের এই সক্রিয়তা মাদক ও কাঠ চোরাচালান চক্রের জন্য যেন এক অঘোষিত সতর্কবার্তা—আইনের নেট আজ আগের চেয়ে আরও টানটান। নেশা বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অবৈধ চোরাচালানের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।
Crime : মুহুরী নদীর চরের নীচ থেকে উদ্ধার দেহ, পুলিশি তদন্তে মিললো পরিচয়


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন