ধর্মনগর, ২৮ ডিসেম্বর : অবসান হলো ত্রিপুরা রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনকে রবিবার চোখের জলে শেষ বিদায় জানালেন অগণিত মানুষ। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শোকস্তব্ধ পরিবেশে ধর্মনগরে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে শববাহী গাড়িতে করে শুরু হয় শেষযাত্রা। পথে পথে সাধারণ মানুষ, দলীয় কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রিয় নেতাকে।
প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলী সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। পরে ধর্মনগর শ্মশান ঘাটে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে দেখতে ভিড় জমান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। চোখের জল আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সকলেই তাঁকে চিরবিদায় জানান।
এর আগে গতকাল আগরতলায় ত্রিপুরা বিধানসভা চত্বরে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রয়াত অধ্যক্ষকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা, রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু ল্লু, শাসক ও বিরোধী দলের মন্ত্রী-বিধায়করা। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সকলেই এক কণ্ঠে শ্রদ্ধা জানান এই সৌম্য ও ন্যায়নিষ্ঠ নেতাকে। বিধানসভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করে স্মরণ করা হয় তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় রাজনৈতিক জীবন।
প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেনের রাজনৈতিক জীবনের পথচলা শুরু হয় ২০০৮ সালে, যখন তিনি প্রথমবার ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালেও তিনি একই কেন্দ্র থেকে পুনরায় জয়লাভ করেন। ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তিনি ত্রিপুরা বিধানসভার ১১তম অধ্যক্ষ হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন ছিলেন একজন অভিজ্ঞ অভিভাবক, যিনি সংসদীয় মর্যাদা রক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সৌহার্দ্যের রাজনীতিতে আজীবন বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর শান্ত স্বভাব, দৃঢ়তা ও ন্যায়পরায়ণতা সর্বদলীয় মহলে সমানভাবে সম্মানিত ছিল। তাঁর প্রয়াণে ত্রিপুরা রাজনীতি এক অমূল্য অভিভাবককে হারাল।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন